ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

স্টোর রুমে তুলে রাখতে। আমরা যখন চুলার খোঁজ করছি, উনি হেসে বললেন, চুলা আমাদের কাছেই রাখা হয়েছে। আপনারা চিন্তা করবেন না। আর আমির সাহেব কে বললেন, এ তিনদিন আপনারা আমার মেহমান। কথা শেষ হওয়ার আগেই কয়েক প্যাকেট বিস্কুট ও দুই ফ্লাক্স চা এসে হাজির। একটায় শায়ে দাউদী বা দুধ চা ও অন্যটাতে শায়ে সোলেমানি বা লাল (র) চা। সবাই বসে গেলাম। এখানে দুধ এত ভাল লাগে যে আমিও নিয়মিত সুধ চা খাই। ঘন দুধের মধ্যে হালকা চায়ের লিকার মিষ্টি কম। বেশ ভাল লাগে।
মাশোয়ারা হল নূতন মসজিদের হক, তাই আমরা দিনের নিজাম করতে বসলাম। একটু পরই ছয়টা কোল্ড ড্রিংক এসে হাজির। ভাই নিজের হাতে নিয়ে এসেছেন। কোন ক্রমেই না খাইয়ে ছাড়লেন না। পরে জানলাম, তিনি বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক ও আফ্রিকার একটা দেশে (সম্ভবত জিবুতি) সফর করেছেন। ছোটখাট হাসিখুসি মানুষ। সব দিকেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। বড় দোকান আছে বাড়ীর সঙ্গে। খড়ির ব্যবসাও আছে। অনেক জমি-জমা ও বিরাট বাড়ী। দুপুরে জুমা শেষে উনার বাড়ীতে গেলাম। অনেকগুলো দালানের সাথে অনেকটা খরের পালার মতো মাথা উঁচু ও গোল মতো ঘরে আমাদের খাওয়ার ব্যবস্থা। প্রায় বাড়ীতেই এ ধরনের একটা করে ঘর দেখেছিলাম। ভেবেছিলাম রান্নাঘর। এখন দেখলাম এগুলো বিশেষ ধরনের ঘর। কাঁটা জতীয় গুল্ম দিয়ে ছাওয়া এইসব ঘরের ভেতরে পুরু করে এঁটেল মাটি দিয়ে প্রলেপ দেয়া। শুকানোর পরে তার উপর সম্ভবত আলকাতরা বা কাল রং দিয়ে আঁকিবুকি এঁকেছে। আফ্রিকার আদিম অধিবাসীদের সংস্কৃতির একটা স্পষ্ট ছাপ বলে মনে হল। সাগরের ওপারেই আফ্রিকা। সুতরাং এটা মনে হয় সেই পুরানো কালের আফ্রিকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জের। তবে কালচার যাই হোক ঘরের ভেতরটা বেশ ঠান্ডা এবং আরামদায়ক। এখন এখানের তাপমাত্রা ২৫০ ডিগ্রীর কিছু কমবেশী হতে পারে। শুনলাম গরমে এই তাপমাত্রা ৪৯০ ডিগ্রী পর্যন্ত ওঠে। তখন বাইরে বের হওয়াই যায়না। সে সময় এ ঘরগুলো বেশ কাজে আসে।
যথারীতি খাওয়ার আয়োজন প্রচুর। আজকের দস্তরখানে দুইটা অপ্রত্যাশিত আইটেম দেখলাম। নুডুলস এবং মুরগীর সুপ। গোটা মুরগী সুপ করার পর পৃথকভাবে ঐ সুপের মুরগী রান্না করা মুরগীর মাংসের সঙ্গে প্লেটের এক পাশে পৃথকভাবে দিয়ে দিয়েছে। সালাদের শশা, টমেটু, গাজর কুচির সঙ্গে একগাদা সবুজ পাতা। পরে খেয়ে বুঝলাম মুলার কচি পাতা। খেতে ভালই লাগল। এ দেশী মুলার পাতায়ও কোন গন্ধ নাই এবং বেশ নরম। আমি নুডুলসই বেশি খেলাম। বড় এক বাটি সুপও খেলাম। এর পরে একটা সুন্দর নক্সাদার কাঠের ঘরের বারান্দায় চা পানের ব্যবস্থা। দরজায় কাঠের সুদৃশ্য নকশা দেখছি, মুন ভাই ঘরের দরজা ঠেলে খুলে দিলেন। বেশ বড় পাকা ঘর। ভেতরের চার দিকের

« <
/ 114
> »