দিতে অনুরোধ করা হল। আজ বাংলাদেশে ইজতেমা শুরু হয়েছে। অথচ আমরা কত দূরে। অনেক কষ্ট বুকে নিয়ে রাত্রে টুঙ্গি ইজতেমার জন্য দোওয়া করা হল।
আজ শুক্রবার ৩১/০১/০৯। টঙ্গিতে আজকে তো মানুষের সমুদ্র। অথচ এবার আমরা কত দূরে। বারবার ঘুরে ফিরে সবার মুখে ঐ কথা। নাস্তার পর অন্য মসজিদে যেতে হবে। সুতরাং আটটার মধ্যেই সব রেডি। গাড়ী এল, মাল সামানা তোলা হল। হাসান ভাই রাজ মিস্ত্রীর কাজ করেন, দৈনিক মজুরী ৩,০০০/-(তিন হাজার) ইয়েমেনি রিয়েল। বাড়ীর অবস্থা অসম্ভব ভাল। প্রায় তিনশত/তিনশত পঞ্চাশ বিঘা জমির মালিক। প্রত্যেকদিন তিন ঘন্টা একটা বিরাট মটর থেকে পানি তুলে এলাকাবাসীকে ফ্রি ব্যবহার করতে দেন। তিনশত ফিট নিচে থেকে পানি উঠে। দৈনিক তিনশত টাকার মত এতে খরচ হয়। ফি সাবিলিল্লাহ। এবারও তার ভাইয়ের গাড়ী। তিনি মটর সাইকেলে নিজের কাজে চলে গেলেন। বলে গেলেন, ইনশাআল্লাহ প্রত্যেকদিন বিকালে আমাদের কাছে যাবেন এবং এশা পর্যন্ত থাকবেন। সত্যিই তিনি কথা রেখেছিলেন।
মরুর ধুলা উড়িয়ে আমরা রওয়ানা হলাম। পথের মোড়ে একটা খুব পুরাতন বাংলা ইটের ভাঙ্গা দালান দেখা গেল। ইটগুলো ৮-১০ ইঞ্চি মনে হয়। বর্তমান কালের দোতলার চেয়েও উঁচা একদিকের দেওয়াল এখনও দাঁড়িয়ে আছে। মনে হল, সম্ভবত দূর্গ ছিল। পরে শুনলাম যে এর পাশেই কানাবেজ এর মার্কাজ। মসজিদ সংলগ্ন খুব পুরাতন একটা কবর টম্ব এর মতো করা আছে। নাম ‘হাফি আল হিমা’। ভেতরে ঢোকার দরজা পর্যন্ত আছে। শুনলাম আসহাবে কাহাফের সেই সম্রাট দেক ইয়ানুস আমলের তৈরী এই সমাধি সৌধ। আর তুর্কি কালাহ বংশধরেরা বিল্ডিংটি নির্মাণ করেছিলেন। ইতিহাসে দ্বির আব্দুল্লাহর উল্লেখ আছে। এ গ্রামটিও পাথরের ব্লকের তৈরি। তবে বিভিন্ন জায়গাতে তিন/চারটা পুরাতন বাংলা ইটের সঙ্গে পাথরের ব্লক দিয়ে আধুনিকায়ন ও সংস্কার করা বাড়ীও দেখা গেল, সব গুলো দালানই বেশ উঁচা, বর্তমান দালানগুলোর চেয়ে তিন/চার হাত উঁচু কমপক্ষে। একটু সামনে যেতেই মসজিদের দেখা পেলাম। অনেক বড় মসজিদ। বারান্দাতে ভাই মোহাম্মাদ আলী বুন ও দুই/তিন জন সাথী দাঁড়িয়ে আছেন। জুমার দিন, পুরা মসজিদ সাফাই করা হচ্ছে। ভাই মোহাম্মদ আলী বুন সহ বেশ কিছু সাথী গতকাল মসজিদে নাজ্জারিয়ায় আমাদের মাশোয়ারায় গিয়েছিলেন। উপহার হিসাবে আসা ছয়/সাতটা তরমুজ, তিন/চারটা বাঙ্গী, পাঁচ/ছয়টা মাল্টা, খেজুর তো ছিলই তার সঙ্গে আমাদের বাংলাদেশ থেকে সঙ্গে নেওয়া বড় একটিন বিস্কুট প্রায় গোটাই ছিল। তার থেকে শুধু গতকাল সন্ধ্যায় বয়ানের পর এক কেজি পরিমান বিস্কুট মেহমানদারীতে দেওয়া হয়েছিল। ফলে বেশ ভাল ভাবেই মেহমানদারী করা হয়েছিল। গাড়ী থেকে নেমে আমরা মাল সামানা ঘরে তুলছি। উনি খাদেমকে বলে দিয়েছেন আমাদের গ্যাসের চুলা
