ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

আটটা দড়ির খাটলা (খাটিয়া তবে মাজা সমান উঁচু)। প্রত্যেকটার উপর দুই/তিনটা বালিশ এবং কেউ চোখ বন্ধ করে শুয়ে থেকে আবার কেউ হেলান দিয়ে বসে ঐ সবুজ পাতা (কাদ) দিয়ে গালটাকে টেনিস বলের মতো উঁচিয়ে নিয়ে বুঁদ হয়ে আছে। আমরা ভেতরে যেতেই একটা অদ্ভুৎ অবস্থার সৃষ্টি হল। চমকে উঠে একেবারে থতমত অবস্থা। হায়রে নেশার ছোবল। মাছুম বাচ্চার মতো অবাক চোখে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকল। রাহবার সবার সাথে হাত মেলালেন এবং কুশল বিনিময় করলেন। সঙ্গে সঙ্গে ভেড়ার ঘরে আগুন লেগে যাওয়ার মতো হল। সবাই উঠে এসে একসঙ্গেই ‘কাইফাল হাল’ বলে বলে হাত মিলাতে এবং হাতে অথবা কাধে চুমু দিতে লাগল। এখানে দেখলাম ‘কাইফা হালুকা’ পাল্টে ‘কাইফাল হাল’ হয়ে গেছে। এরকম পরিবর্তন আরো অনেক কিছুতেই দেখলাম। সবচেয়ে কষ্ট লাগল, বিত্তশালীরাই নিজেদের ঘরের মধ্যে কাদের নেশা বিস্তারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে অথচ নিষেধ করার বা বাধা দেওয়ার কেউ নাই। তবে সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছিলাম ও কষ্ট লেগেছিল যখন হুদাইদা থেকে এজতেমার মাঠে আসার সময় চৌকি রক্ষীরা আমাদের গাড়ীসহ সব গাড়ী ও যাত্রীদের চেক করছিল। তখন ওদের গালকেও টেনিস বলের মত উঁচু দেখেছি।
প্রথম দিন মহব্বত, দ্বিতীয় দিনে তাশকিল এবং শেষ দিনে উসুল। তাই বাদ মাগরিব বয়ানের পর তাশকিল করা হল। তের জন সফরের জন্য নাম লিখাল। এর মধ্যে যে ছয় জন বিদেশে সফরের জন্য নাম লিখাল তাদের ভেতরে ভাই আব্দুল্লাহ আলী হাসানের ছোট দুই ভাইও আছে। সবাই খুব আগ্রহ দেখাল। এরাদা নয় বরং ওয়াদা করল। পরের দিনও হাসান ভাই একাই তার বাড়ীতেই খাওয়ার ব্যবস্থা করলেন- অন্য কাউকে সুযোগ দিলেন না, আমাদেরকে রান্না করতে দেওয়ার তো প্রশ্নই উঠে না। চা এবং নাস্তার সময় নতুন এক পিঠা এল। প্রায় ছেলা বড় নারকেলের সাইজের একেকটা পিঠা দেখতে আমাদের গ্রামাঞ্চলের মুঠা পিঠার মতো অথচ ভেতরটা নরম। তরকারী, মধু অথবা দই দিয়ে খেতে হয়। আমি তরকারী দিয়ে খেলাম। ভালই লাগল।
তৃতীয় দিন মাশোয়ারা করে হাসান ভাই ও সাথীরা আমাদের রোখ “দ্বির আব্দুল্লাহতে” ঠিক করলেন। এখান থেকে মরু মাঠের মধ্য দিয়ে পাঁচ কিলোমিটার। আজকে দুপুরের খাদ্য তালিকায় একটা নূতন তরকারী এল। শুধু বরবটি গোটা গোটা রান্না করেছে। মনে হল হালকা একটু লবন ও পানি দিয়ে সিদ্ধ করে পরে অল্প একটু তেল দিয়ে মাখানো। অনেকটা মোটা সবুজ রং এর নুডুলস এর মতো। যে সমস্ত সাথী বিদেশে যেতে চেয়েছিলেন তাদেরকে পাসপোর্ট করার জন্য দরখাস্ত করতে বলা হল। ৫,০০০/-(পাঁচ হাজার) রিয়েলসহ ফরম যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিজের হালকার জিম্মাদারের কাছে জমা

« <
/ 114
> »