ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

ইদানিং মাদ্রাসাগুলিতেও সুন্নতী পোষাকের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ছোট ছেলে মেয়েদের মধ্যে ফুলপ্যান্ট ও সালোয়ার কামিজ চালু। দামী পোষাকও এরা সাধারণভাবেই পড়ে এবং বসার সময় বালুর উপরই নির্দ্বিধায় বসে পড়ে। অবশ্য বালুর সুবিধা এই যে, উঠে ঝাড়া দিলেই সব পরিষ্কার। ফলে কাপড় নোংরা হয় না আমাদের মতো, তবু বালু তো! মন যেন কেমন কেমন করে। তবে একটা জিনিস ভাল লাগছে, এদিকে মাছি বেশ কমে গেছে। খাওয়ার সময় বেশি অসুবিধা হচ্ছে না। মাছিরির প্রয়োজন পড়ে না। এদের প্রধান খাদ্য যোরা আমাদের দেশের জোয়ারীর এদেশী সংস্করণ। ভুট্টা গাছের মতই তরতাজা মোটা গাছের মাথায় একথোকা জোনার, বা যোরা। কাঁচা অবস্থায় অর্থাৎ প্রথমে সবুজ পরে পাকলে হালকা বেগুনি রং ধারণ করে। গাছসহ ফসল জাগ দিয়ে তারপর মারাই করে যাঁতায় পিষে ময়দা করতে হয়। সেই ময়দা বাড়ীর তন্দুরের মধ্যে ছেঁকে রুটি ও পিঠা বানায়।
৮:৩০ মিঃ এর মধ্যে খাওয়ার পাঠ শেষ। তার কিছু পরেই শোয়ার আয়োজন এবং ঘুমের আমল। যে কোন কারণেই হোক হঠাৎ করে ১২:৫০ মিঃ ঘুম ভেঙ্গে গেল। উঠে বাইরে গেলাম, চারিদিকে নিঃশব্দ নিঝুম পরিবেশ, চাঁদ দেখলাম না কিন্তু আলোর অভাব নাই। কিছুক্ষণ পরে চোখে মুখে স্নিগ্ধ বাতাসের প্রলেপ মাখিয়ে নিয়ে ঘরে ফিরে এসে বিছানায় যাব, মনে হল ভাই শফিউল ইসলাম জেগে আছেন। কাছে গেলাম। সত্যিই জেগে আছেন, কি কারণে যেন ঘুম আসছে না তার। মশারীর পাশে বসে বসে কথা বলতে ভালই লাগছিল। উনিও উঠে বসলেন কথা বলে মনে হল আরাম পাচ্ছেন। আসলে রাতের গভীরে মানুষের মনের দরজা খুলে যায়। ভেতরের গোপন মানুষ অর্গল খোলা পেয়ে মুক্ত-বাতাসের লোভে ক্ষুধাতুরের মতো বেড়িয়ে আসে। সে এক বিচিত্র জগৎ। এখানে সে প্রসঙ্গে কিছু আলোচনা না করাই ভাল। এক অর্গলের বন্দি অন্য অর্গলে নূতন ঠিকানায় না হয় লুকিয়েই থাক। ক্ষতি কি? প্রায় তিনটা বাজে, উঠে পড়লাম। তিনটায় লাইট অফ হবে। সুতরাং হারিকেন ধরানোর প্রস্তুতি নিলাম। ফজরের নামাযের আগেই চা এল। সাতটার পর পরই নাস্তা। আজকে নাস্তায় নতুন জিনিষ যোগ হয়েছে যোরার রুটি। বেশ পুরু ও হালকা বেগুনি। বড় সাইজের চিতাই পিঠার মত সাইজ কিন্তু আগা গোড়াই পুরু। খেতে মন্দ লাগল না। তবে খেয়ে অভ্যস্ত নয় বলে বাড়ীতে বানানো তন্দুরের রুটি ও লম্বা রটিই সাথীরা বেশি খেলেন। দুপুরে পোলাও ও মুরগী গোস্তের সঙ্গে ভেজিটেবল, মূলতঃ টমেটুর সঙ্গে সামান্য আলু। দুইটার মধ্যে খানা শেষ। কিন্তু তিনটা কুড়িতে আসরের আযান, তাই তালিম শুরু করা হল।
বিকেলে গান্তে বের হলাম। শেষের দিকে প্রাচীর ঘেড়া এক বড় বাড়ীর ভেতরে একটা ঘরে নিয়ে গেলেন রাহবার (এ দেশে বলে ‘দলিল’)। ঘরের মধ্যে

« <
/ 114
> »