লাগছে যে, ওদের সঙ্গে আমাদের আচরণের কথা মনে হলে লজ্জাই লাগছে। আমরা খেদমতের দায়িত্ব নিলে হিসাব করি অল্প টাকার মধ্যেই কিভাবে দায়িত্ব শেষ করা যায়। এখানে মেহমানদারি করে যেন ওদের মন ভরেনা। শুধু যে মেহমানরা খাচ্ছে তা কিন্তু না। মসজিদে যারাই ঐ সময় উপস্থিত থাকছে সবাই অংশ নিচ্ছে। এমনকি গরীব লোক- মানুষের সাহায্য চেয়ে বিশ্রামের জন্য মসজিদে এসে পড়ল, সেও ব্যাগ রেখেই বসে যাবে মেহমানের মতই এবং যে কোন থালাতেই তাকে স্বাগত জানানো হয় কোন সংকোচ, দ্বিধা ছাড়াই। এদেশের মানুষদের গায়ের রং ও চেহারা অনেকটাই আমাদের দেশের মতো। টকটকে ফর্সা মানুষ প্রায় চোখেই পড়ে না। শ্যামবর্ণ ৮০% কিছু কুচকুচে কালও আছে। এমন কি আমরাই কেউ কেউ এখানে ফর্সা। ছোট ছোট মেয়েদের মধ্যে কিছু ফর্সা মেয়ে দেখলাম। মনে হয় মেয়েরা ফর্সা হতে পারে। তবে ছয়/সাত বছরের মেয়েরাও সবাই কাল বোরখা পড়ে। কিন্তু এসব বাচ্চাদের হাত মুখ খোলা থাকে। এখন থেকেই পায়ে মোজা পড়ে। এখানে এই চৌদ্দ দিনে এ পর্যন্ত একটাও কাল ছাড়া অন্য রং এর বোরখা চোখে পড়েনি এবং কোন বোরখাই চটকদার বা ডেকোরেটেড না। সানা বা হুদাইদাতে স্কুল কলেজের মেয়েদের এমনকি হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সদেরও দেখেছি একই রকম বোরখা ও হাত-পায়ে মোজা। শুধু হাসপাতালে ডাক্তার মেয়েদের মুখে নেকাব খোলা- অথচ খুবই শালীন। কথা বলে বাতাসের সুরের মতো হালকা স্বরে- আস্তে আস্তে।
প্রাসঙ্গিকভাবেই এখানে পুরুষদের পোষাকের বর্ণনা দেওয়ার লোভসামলাতে পারলাম না। প্রতিটি মানুষই তা ছোট হোক বা বড়, খুব নক্সাদার সেলাই ছাড়া লুঙ্গি পড়ে, হজ্জ্বের এহরাম বাঁধার সময় যেভাবে লুঙ্গি পড়তে হয়। এরা লুঙ্গির মাজা ভাজ করে একটা চওড়া নক্সাদার ও অধিকাংশ সময়ই দামী একটা বেল্ট পড়ে। সামনের দিকে বেল্টের সঙ্গে একটা খাপসহ খঞ্জর থাকেই। জন্মের পর পরই ছেলেদের জন্য খঞ্জর কেনা হয় এবং খুবই মর্যাদার প্রতীক খাপসহ খঞ্জর তারা সারা জীবন বহন করে। খাপের মাথাটা বাকানো এবং কোন কোন খঞ্জরের খাপের দাম শুনে আমি অবাক হয়েছি। একজনের বেল্টের সঙ্গে একটা নক্সাদার খাপ দেখলাম যার দাম ৪,০০০/-(চার হাজার) ইয়েমেনি রিয়েল (১,৪০০/-/১,৫০০/ (এক হাজার চারশত/এক হাজার পাঁচশত) বেল্ট ও খঞ্জরের জাম সহ ৮,০০০/-(আট হাজার) ইয়েমেনি রিয়েল। শুনলাম লক্ষাধিক টাকার সেটও আছে। হয়ত এই খঞ্জর কোনদিনই কোন কাজে আসবে না- তবু তাদের কাছে এটা দারুন মর্যাদার প্রতীক এবং গর্বের বস্তু। লম্বা ঝুলের জামা বা জোব্বা খুব কম। প্রায় লোকই লুঙ্গির উপর ফুলসার্ট এবং তার উপর কোট গায়ে দিয়ে থাকে। হুদাইদার গরমের মধ্যেও এর ব্যতিক্রম দেখলাম না। তবে তবলীগের লার্থীদের মধ্যে পূর্বের মতই জোব্বা বা সুন্নতী পোষাক ঠিকই চালু আছে এবং
