ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

ইলিশ মাছের মতো। সকালের নাস্তায়ই মাছটি ভাজা হয়ে চলে এল। দেখলাম মাছের মধ্যের কাঁটা খুব মোটা ও শক্ত। আঁশ কিছুটা তুলেছে কিন্তু সবটুক নয়। বেলা হতেই দেখলাম, মোটর সাইকেলে করেই বিভিন্ন ফলমূল তরকারী আসছে।
কিছুক্ষণ বিক্রী করে সাইকেল নিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। এমন কি আইসক্রিমও এভাবেই বিক্রী হচ্ছে। স্থায়ী দোকানও আছে। সেখানেও প্রচুর বিক্রী হচ্ছে। যোহরের আযান ১২:২০ নামায ১২:৪০। লোকজন প্রচুর তবে মাঝ বয়সীদের সংখ্যা খুব কম, দুই/এক জনকে দেখলাম। শুনলাম এরা চাকুরীর সুবাদে সাউদি আরবে থাকে, কেউ কেউ অল্প সল্প বাংলা জানে। বলল, ওদেশে প্রচুর বাঙ্গালী আছে। ৩:২০ মিঃ এ আছরের আযান ৩:৪০ এ জামাত। আমাদের মনে আশঙ্কা হল আছরের ওয়াক্ত হচ্ছে তো? আমাদের সময় অনুযায়ী নামায হচ্ছে তো?
সালাম ফিরিয়েই গাশতের আদব বলা শুরু হল। একজন বাংলায় এবং মওলানা অনুবাদ করলেন। এলান দিতে হল না- কারণ এলাকার সাথীরাই বড় করে এলান দিয়ে দিলেন- অনেকটা ছোট বয়ানের মতো। এখন গেলে কাউকে বাড়ীতে পাওয়া যাবে না। সুতরাং নিয়ম হল এখন চা খাওয়া ও উপস্থিত লোকদের সঙ্গে কথা বলা। প্রায় পাঁচটার দিকে গাশূতে গেলাম। এদেশে বিদেশী জামাত আসে পাকিস্তান থেকে সবচেয়ে বেশি। তাই আমাদের নিজস্ব স্বকীয়তা বোঝানোর জন্য আগেই মাশোয়ারায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, আমরা প্রথমেই আমাদের পরিচয় দেব এ বলে “নাহ্নু ছিত্তানফর মিন বাংলাদেশ। তারপর দাওয়াত দেব। সেভাবেই শুরু করা হল। সুন্দর সাড়া পেলাম। এদেশে লোকজনকে ডাকলে বেশ কথা শোনে, শেষে বলি মুসতায়িদ্দুন? আসবে তো? প্রস্তুত তো? সবাই হৈ হৈ করে বলে আনা মুসতায়িদ্দিন। যে এলাকায় আমরা গাশ্ত করলাম এর পাশেই ধু ধু মরু প্রান্তর। দূরে ফাঁকা ফাঁকা জোয়ারের ক্ষেত। মাঝে মাঝেই সবুজ বরবটীর ঝোপ। এখানে বরবটির গাছ লতানো হয় না বরং অনেকটা ঝোপের মতো। বরবটির সাইজ চার/পাঁচ ইঞ্চি। ডিপ-টিউব অয়েল আছে। বাড়ীতে ট্যাপের লাইনে পানি সরবরাহ করে, গাধার পিঠের কন্টেনারে পানি দেয় আবার ক্ষেতেও পানি সেচ দেয়। প্রত্যেক বাড়ীতেই কম পক্ষে একটা নিম গাছ, বাবলা গাছ, কাঠবাদাম গাছ অথবা যে কোন ধরণের গাছ আছেই। যেখানে সেখানে যে গাছই জম্মাক ওরা সে গাছকে বাড়তে দেয়। কোন কোন বাড়ীতে করবীসহ দুই/একটা ফুল গাছও আছে। তবে সংখ্যায় কম। হেনা অর্থাৎ মেহেদী দেখলাম না। প্রতিটি গাছে নিয়মিত পানি দেয় এবং প্রচুর যত্ন করে। অনেকটা ছোট বাচ্চার মতো। যাদের গাছ বেশি তারা এ জন্য গর্বিত।
আমাদের জামাতের এটা তিন নম্বর মসজিদ। একশত বিশ দিনে কমপক্ষে পঁয়তাল্লিশ/পঞ্চাশটা মসজিদে যাওয়ার সুযোগ হবে। দেখি কোথায় কেমন কাটে। এ পর্যন্ত যা দেখলাম তাতে মানুষজনদের আচরণ এতই সরল ও আন্তরিক

« <
/ 114
> »