ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

এরা কোথায় আর আমরা কোথায়। তবে এখানে মাছির উপদ্রব এত বেশি যে প্রথমদিন সকালে নাস্তা করতে খুবই কষ্ট হয়েছিল। মাছিতে খাবারের প্লেট ঢেকে ফেলে। মাছিদের এটা ব্রিডিং টাইম। এদের দেশে এটা বসন্তকাল। মাছির অত্যাচারে বসে থাকাও মুশকিল। বাধ্য হয়ে দুপুরে মশারি টাঙ্গিয়ে তার নিচে খাওয়া দাওয়া করতে হল। মশার ভয়ে মশারি টাঙ্গাতে হয়। কিন্তু এখানে মাছির ভয়ে মশারি টাঙ্গাতে হল জন্য আমরা মশারীর নাম দিলাম মাছিরি।
এখানেও মানুষের বয়ানে বসা ও কথা শোনায় কোন আপত্তি নাই। নামায শেষে ছোট বড় প্রায় সবাই বসে পড়ে বয়ান শুনতে। আমাদের মধ্যে একজন বাংলায় বয়ান করেন, আর আমির সাহেব তার তরজমা করেন আরবীতে। ছোটরাও বসে থেকে চুপচাপ শোনে ও অন্য সময়ও এসে বসে বসে কথা শোনে অথবা কোরআন তেলাওয়াত করে। মানুষগুলো একদম সরল। সাজ পোষাকের কোন গুরুত্ব নাই। অথচ প্রায় প্রত্যেক বাড়ীতেই কমপক্ষে একটা মোটর গাড়ী অথবা নিতান্ত কম হলেও দুই একটা মোটর সাইকেল আছেই। এরা সারাদিন প্রয়োজনে গাড়ী ও মোটর সাইকেল ভাড়া খাটায়। শহরের পথে প্রচুর মাইক্রো চলে। মাইক্রোগুলিতে প্যাসেঞ্জার উঠায়। মোটর সাইকেলগুলো রিক্সার মতো পেছনে প্যাসেঞ্জার টানে। শহর থেকে শহরে অথবা পাড়া থেকে পাড়ার যে দূরত্ব তাতে এর কোন বিকল্প আছে বলেও মনে হয় না। মরু এলাকার জন্য চারিদিকে ধু ধু মরুভূমি। মাঝে মধ্যে দুই/একটা গাছ অথবা ফাঁকা ফাঁকা ক্ষেত। এক বাড়ী থেকে অপর বাড়ী বালুর পাথার ভেঙ্গে যেতে হয়। এ যেন বালুর সমুদ্র। এখানে বেসরকারি বিদ্যুৎ আছে তবে পাওয়ার সাপ্লাই এর নিয়মটা অন্য রকম। ঠিক বিকাল পাঁচটায় পাওয়ার সাপ্লাই শুরু হয় এবং রাত তিনটায় বন্ধ হয়। এক সুইচেই অনেক গুলো লাইট ও ফ্যান জ্বলে ও বন্ধ হয়। ফলে গরমের কারণে ফ্যান দিয়ে রাখতে হয় অথচ লাইট বন্ধ করার সুযোগ নাই জন্য সবগুলো লাইটও জ্বালিয়ে রাখতে হয়। প্রথম ভোরেই ফজরের নামাযের পর বয়ান, তারপর ইশরাক এর নামায শেষে কোরআন শরীফ পড়ছি, হঠাৎ আমির সাহেব ডাকলেন, স্যার আসেন তো দেখি কি ব্যাপার। জানালা দিয়ে দেখলাম একটা মোটর সাইকেলে একজন বসে আছে এবং তার চারদিকে দশ/পনর জন বিভিন্ন বয়সের মানুষ। বাইরে যেয়ে দেখি একটা মোটর সাইকেলের দুই ধারে দুইটা মাঝারী সাইজের পানির কন্টেইনারের একদিক কেটে তার মধ্যে বরফ দিয়ে সামুদ্রিক মাছ রাখা আছে। সবাই ঐ মাছ কিনছে। ছয়/সাত ইঞ্চি করে একেকটা মাছ লম্বা। নাম ‘বাগ’। প্রত্যেকটা বিশ রিয়েল (প্রায় সাত টাকা) তবে দর দস্তর ও মাপামাপি নাই। যার যতটা দরকার নিয়ে নিচ্ছে। প্রথমে মাছটা একটা টিনের উপর রেখে চাকু দিয়ে মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত টানা লম্বা করে ফেড়ে ফেলা হচ্ছে। হাত দিয়ে এখন নাড়ি ভুড়ি বের করা সহজ। আঁশ আছে, দেখতে কিছুটা

« <
/ 114
> »