ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

মরুর দেশে: কারাভাঁর যাত্রা হল শুরু…
রাত্রে আমাদের গন্তব্যের ফয়সালা হবে। এদিকে বিকেলেই সাথী ভাই আব্দুল্লাহ আলী হাসান নাজ্জারী এসে হাজির। আজ সহ ছয় বার আসা হল। এর মধ্যে এজতেমার মাঠেই দুইবার, সেখানেও মেহমানদারীর কমতি নেই। তরমুজ খাইয়েছেন- এক/দুইটা নয় ছয়/সাতটা করে। তাদের ইচ্ছা আমাদের জামাতকে তাদের এলাকায় নিয়ে যাবেনই। শেষ পর্যন্ত তাদের অগ্রহ ফলবতী হল। বিশ দিনের জন্য আমাদের প্রথম রোখ (গন্তব্য স্থল) হল মরুময় মরুকন্যা কানাবেজ এ। সেখানে যেতে হবে জন্য কারো কারো মন হয়ত খুঁত খুঁত করতে পারে তাই মওলানা সুন্দর একটা ফারসী বয়াত শুনিয়ে দিলেন। “পীরে মান খোশাস্ত এহতেমাল বসান্ত”। সরল অর্থে গন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন না তুলে উদ্দেশ্য সিদ্ধ হওয়াই কেন প্রধান সে বিষয়ে বিস্তারিতভাবে বুঝালেন। আমি মনে মনে ভাবলাম, তার বয়াতের অনুবাদ এ ভাবে করলে কেমন হয়:-
“আমার পীর যাতে খুশী সেটাই চূড়ান্ত
বিকল্প পথ যা কিছু ছিল সবই ভ্রান্ত।” এরপরে আর কোন বিকল্প চিন্তা কারো মাথায় আসার প্রশ্নই উঠেনা। গন্তব্য কানাবেজ, যেতে হবে। এখান থেকে দূরত্ব হুদাইদা বন্দরের পাশ দিয়ে আশি কিলোমিটার। পরের দিন সকালে নাস্তা শেষে গাড়ীর পেছনে মাল সামানা তুলে আমরা সবাই টয়োটা স্টারলেট ২৪০০ হাফ ট্রাক গাড়ীতে বসে পড়লাম। এ রকম হাফ ট্রাক এখানের পথে ঘাটে অসংখ্য। সব কাজই হয়। যাত্রীও বহন করা যায়। সাথে মালও। মালিক ও চালক হাসান ভাইয়ের ছোট ভাই। কানাবেজ থেকে পাকা রাস্তা শেষে ধূলি ধূসরিত কাঁচা মেঠো পথে আরো আট/দশ কিলো যেতে হল। তারপর মসজিদ ‘মসজিদে নাজ্জারী’। ছোট খাট মসজিদ। একশত/একশত পঁচিশ জন মানুষ একত্রে নামায পড়তে পারবে। প্রাচীন আমলের এই মসজিদটি পাথরের চতুস্কোন টুকরা দিয়ে তৈরি। আলহামদুলিল্লাহ বলে নেমে পড়লাম। সঙ্গে সঙ্গে এলাকার ছোট বড় ছেলেরা এসে কাইফা হালুকা (কেমন আছেন) বলে হাত মিলাতে লাগল। কেমন যেন ভি আই পি, ভি আই পি ভাব। সবাই বিশেষ একটু সমীহের চোখে দেখছে। ফিসফিস করে বলছে ‘বাংগালাদেশ বাংগালাদেশ’। বিদেশে এসে নিজের দেশের কারণে এত ভাল লাগা আর এত ভালবাসা পাওয়ার কথা স্বপ্নেও ধারণা করা যায়নি। এ মসজিদে তিনদিন থাকলাম। প্রত্যেক দিন পাঁচ বেলা হিসাবে জামাই আপ্যায়ন। ফলমূল, ভাত, গোস্ত, মাছ, তরকারী রুটি বিস্কুট চা এর যেন বন্যা বয়ে গেল। খেয়ে শেষ করা যায়না। তবু যেন ওদের আপ্যায়ন করে তৃপ্তি হয়না। হায়রে! মেহমানদারিতে

« <
/ 114
> »