টক। স্থানীয়রা এটাই পছন্দ করে। দাম পঞ্চাশ রিয়েল আমাদের প্রায় সতের টাকার মতো। আমরা চিনি মিশিয়ে নিয়ে দই খেতাম। এ দেশীয় সাথীরা আমাদের সঙ্গে বসে সবকিছু খেলেও চিনি দেওয়া দই খেতনা।
এজতেমা শেষে কয়েক’শ জামাত দেশে বিদেশে রোখ নিয়ে চলে গেল-শুধু বাদ থাকল আমাদের ছয় জনের এই বাংলাদেশী জামাত ও দুইটা পাকিস্তানী জামাত। কোথায় কোন জামাতের রোখ হয়েছে ইত্যাদি যাচাই শেষ করে তারপরে রোখ দিতে চাইলেন বলে আমরা তিনটা জামাত আবার হুদাইদার মারকাজে ফিরে এলাম। মনে মনে ভাবলাম, গরম শহরে না ঠান্ডা শহরে রোখ হয় তার উপর ভিত্তি করে কাপড় চোপড় ও মাল সামান নিলেই ভাল হবে। মাশোয়ারাতেও এটাই ঠিক হল। হুদাইদা ছাড়া হাজরা মাউত এবং আদন (এডেন বন্দর) ইত্যাদি হল গরম আবহাওয়ার শহর। রদায়, মাহয়িদ, সানা ইত্যাদি সব বেশ শীতের শহর। এখন অপেক্ষার পালা। পরের দিন বিরতি। শুধুই বিশ্রাম। হঠাৎ করেই ভাই ফাহিম এসে হাজির। যে গাড়ীতে আমরা সানা থেকে এসেছিলাম সে ঐ গাড়ীর মালিক ও ড্রাইভার। চিল্লার সাথী। বাংলাদেশেও এজতেমাতে গেছেন ও চিল্লা দিয়েছেন। টিপটপ মানুষ দেখে বোঝাই যায় না। আসলে পুরা ইয়েমেনের আহলে শুরার যিনি প্রধান সেই ভাই সালেহ মকবিল নিজেও প্রথম দিকে এ রকম ছিলেন। তবলীগ করতেন না তবে কেতাদুরস্ত মানুষটি তবলীগ ওয়ালাদের পছন্দ করতেন। সুযোগ পেলেই নিজের গাড়ীতে করে সাথীদের বিভিন্ন গন্তব্যে নিজ খরচে পৌঁছে দিতেন। এভাবেই সূচনা। পরে আল্লাহর মেহেরবানী হল। তবলীগে ঢুকলেন এবং শেষ পর্যন্ত পুরা দেশের প্রধান ও ফায়সাল। বাংলাদেশে অনেক বার গিয়েছেন এবং আমাদের প্রায় সব মুরুব্বীর সঙ্গেই তার সুসম্পর্ক আছে। উনার ডান হাত তার ছেলে লাবিব কেন্দ্রীয় মারকাজে বর্তমানে কাজ করছেন এবং তিনিই এবার বিদেশীদের দেখভালের পুরা দায়িত্ব পালন করছেন। মাঝ বয়সী হাসিখুশি মানুষ। লাটুর মতো দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন, কোন বিরক্তি নাই। পাসপোর্ট, ভিসা, টিকেটের সময় বাড়ানো, পুলিশি রিপোর্ট, মেডিক্যাল, থাকা ও খাওয়াদাওয়া সবই তার জিম্মায়। আমরা শুধু প্রয়োজনীয় অফিসের ফিস দিয়েই খালাস।
যাহোক ফহিম এসেই আমাদের খুঁজে বের করলেন। সানা থেকে হুদাইদা আসার পথেই আলাপ বেশ জমে গিয়েছিল- প্রস্তাব দিলেন আজ তিনি বাইরের কোন ভাড়া তুলবেন না। আমাদের সঙ্গে সময় কাটাবেন এবং সেজন্য আমাদের সমুদ্র সৈকতে নিয়ে যেতে চাইলেন। ফলে সময়টা অন্য রকম হয়ে উঠল। কয়েকটি ইন্দোনেশিয় এবং থাইল্যান্ডের ছাত্র ছিল। ওরাও যেতে চাইল। ফলে এগার জনের জামাত- চললাম সমুদ্রে। আমি ও মুনির ভাই ছাড়া সবাই সমুদ্রের পানিতে নেমে খুব মজা করলেন। রঞ্জু হাজী সাহেব তো উচ্ছল হয়ে গেলেন।
