ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

হাতে যেই সে সিরিঞ্জ ঢুকিয়েছে যথারীতি সুচ শিরা ভেদ করে ওপারে চলে গেল, রক্ত আসাই বন্ধ হয়ে গেল। আমি তো হাসছি। মেয়েটি থতমত খেয়ে আমার দিকে ভয়ে ভয়ে তাকাল। তারপর তাড়াতাড়ি যেয়ে ইনচার্জ ডাক্তার কে ডেকে আনল। তিনিও দুই বার চেষ্টা করলেন হলনা। আমি হেসে বললাম, বাম হাত থেকে নেন, পাবেন। তিনি বাধ্য হয়ে বাম হাত থেকে রক্ত নিলেন। এ রকম ঘটনা এর আগেও কয়েকবার হয়েছে। আমার পরে সিরিয়াল মওলানা মিজানের, তিনি কোনদিন এভাবে রক্ত দেননি- খুব ভয় পেয়ে গেছেন। আমি তাকে অনেক সাহস দিয়ে রক্ত দেওয়ালাম। মেয়েটি কিন্তু আর আসলই না। রক্ত দেওয়া শেষ হলে সবাই ফিরে এলাম। রিপোর্ট পরের দিন দেবে। অবশ্য পাকিস্তানী জামাতের রিপোর্ট আমরা নিয়ে এলাম। ওদের ৫০০০/-(পাঁচ হাজার) করে মাথাপিছু নিয়েছে সাত জনের ৩৫,০০০/- (পঁয়ত্রিশ হাজার) ইয়েমেনি রিয়েল। কারণটা বুঝলাম না।
বিকেলে পাসপোর্ট জমা দিতে হল পুলিশ রিপোর্ট এর জন্য। ওখানে ৬৫০/-(ছয়শত পঞ্চাশ) হিসাবে ৩৯০০/- (তিন হাজার নয়শত) ইয়েমেনি রিয়েল ফিস দিলাম। তবে থানায় যেতে হলনা, ওরাই নিয়ে গেল এবং পরের দিন সানার কর্তৃপক্ষ সিল দেওয়া পাসপোর্ট নিয়ে এলেন। আল্লাহর মেহেরবানীতে কোন রিপোর্টই খারাপ না হওয়ায় কোন ঝামেলা হল না।
সানাতে আমরা দুপুরে পোলাও এর সঙ্গে মুরগী খেতাম। এখানের মুরগীর বদলে গরু/দুম্বার গোস্ত। একই রকম সুন্দর রান্না। হাত দিলেই মাখনের মতো গোস্ত হাতে উঠে আসে। শেখার ইচ্ছা থাকলেও তা আর হয়ে উঠলনা। আসলে প্রায় সব সময়ই বিভিন্ন আমল থাকে তো রান্না শিখব কখন? তবু যেটুকু দেখলাম তাতে মনে হলো বিশেষ ধরনের চুলা দরকার। এরা চার/পাঁচ থাকের গ্যাসের চুলায় গোটা মুরগীর গায়ে হালকা মসল্লা ও তেল দিয়ে শিকে গেথে সেই শিকসহ মুরগী গ্যাসের আগুনের উপর ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দীর্ঘ সময় সেদ্ধ করে। মাঝে মধ্যে মুরগীর গায়ে হালকা মসল্লা ও তেল মাখিয়ে দেয় এবং ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে আঁচ কমবেশী করে রান্না শেষ করে। ফলে তাপ নিয়ন্ত্রণসহ সবকিছু মাত্র একজনেই করে। একই সঙ্গে পনর/বিশটা মুরগী রান্না করে কোন ঝামেলা ছাড়াই। অনেকটা গ্রীল করার মতো করে, আমাদের দেশে আমরা ইদানিং বড় বড় শহরে এ ধরণের রান্না দেখছি। তাছাড়া এই কাজের ফাঁকে অন্য কাজও করা যায় স্বাভাবিকভাবেই।
জয়তুন এখানে টিনের কন্টেইনারে বিক্রী হয়। তেলের মধ্যে জয়তুন ডুবান থাকে। পাকা অথবা সিদ্ধ দুই রকমের জয়তুনেরই প্যাকেট পাওয়া যায়। পছন্দের সাইজ মতো টিন খুলে জয়তুন তুলে পৃথক করা হয় এবং তেল অন্য পাত্রে রাখা ও খাওয়া হয়। দই এর একটা ইংরেজি প্রতিশব্দ সাওয়ার মিল্ক অর্থাৎ টক দুধ তা এখানে একদম সত্যি। ‘একবার ব্যবহার’ গ্লাসে করে যে দই বিক্রী হয় তা বেশ

« <
/ 114
> »