প্যাকেট দিয়েই তিনি চলে গেলেন। রাত্রে আমরা খবরের কাগজে মোড়ানো প্যাকেট খুলে তার মধ্যে বারটা খেজুরের প্যাকেট পেলাম। আমাদের জানামতে মদীনা থেকে কারো পাঠানোর কথা নয়, পাঠানোর মতো কেউ নাইও। অথচ বিশেষভাবে বাংলাদেশের জন্য এই খেজুরের প্যাকেট কে পাঠালো? সে জানলো কি করে যে, অত হাজার হাজার লোকের মধ্যে ছয়জন বাংলাদেশী কোথায় আছে? আবার মাথাপিছু প্যাকেটও দুইটা হিসাবে বারটা। সবই কি এ্যাকসিডেন্টাল? এর মধ্যে কি আল্লাহর মেহেরবানী ও কুদরত নাই? সবাই সিদ্ধান্ত নিলাম, বরকত হিসাবে সবাই এই খেজুর নিজ নিজ বাড়ীতে নিয়ে যাব।
ইয়েমেন বালু, পাথর আর পাহাড়ের দেশ। এখানে ইটের কোন কারবার নাই। তবে প্রচুর কুচি ও ছোট পাথর আছে যে পাথরের তারা উপযুক্ত ব্যবহার করেছেন। কুচি পাথর ও ছোট পাথরের সঙ্গে সিমেন্ট মিশিয়ে তারা ঘর ও প্রাচীর বানানোর উপযোগী বিভিন্ন সাইজের ব্লক তৈরি করেছেন। এই ব্লক সিমেন্ট বালু দিয়ে গেঁথে দিলেই সুন্দর ঘরবাড়ী ও প্রাচীর হয়ে যাচ্ছে। আর এ পাথর ও বালু তাদের নিজেদের কাছেই প্রচুর পরিমাণে বর্তমান। প্লাষ্টারিং প্রায় কোন বাড়ীঘরেই চোখে পড়ে না। তবে কেউ কেউ বিভিন্ন ভাবে রং করে রেখেছেন প্রাচীর ও বাড়ীর দেওয়ালে। শহরে প্রায় অধিকাংশ বাড়ীই কমপক্ষে দোতলা, তিনতলা, তাতে লোহার দরজা ও জানালা যা দেখতে সুন্দর, রঙ্গীন ও নকশাদার। ছাদগুলো আর সি সি বিম এর উপরে কাঠের পাটাতন, তবে উপরে ৪ ইঞ্চি সিমেন্টের ঢালাই। বেশ কিছু ক্ষেত্রে পিলারের উপর সিমেন্টের আর সি সি বিম দিয়ে তার উপর মোটা কাঠের বর্গা ব্যবহার করা হয়েছে। কোন কোন বাড়ীতে গোটা গোটা চতুষ্কোন পাথরের টুকরাও ব্যবহার করা হয়েছে। বাড়ী ও প্রাচীর তৈরিতে ব্যবহৃত পাথর বাইরের দিকে সমান হলেও অন্য দিকগুলো বিভিন্ন সাইজের এবং দেখতে আমার কাছে ভালই লাগছিল। তবে খুব কম বাড়ীতেই
এই বিলাস বহুল কাজ করানো হয়েছে। বলতে ভুলে গেছি, সানাতে অবস্থানকালে দ্বিতীয় দিনেই আমরা মেডিক্যাল
করালাম। রক্তের এইচ আই ভি পজিটিভ আছে কিনা তার পরীক্ষা করার জন্য (অবশ্য এ রিপোর্ট আমরা দেশ থেকেই করিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম। তারপরও ওরা আবার পরীক্ষা করল।) আমাদের ছয় জনের ফিস লাগল ২৭০০০/-(সাতাশ হাজার) ইয়েমেনি রিয়েল। ফেরার পথে আমরা প্রত্যেকে একশত ডলার করে ছয়শত ডলার ভাঙ্গালাম। পেলাম ১,২০,৫০০/= (এক লক্ষ বিশ হাজার পাঁচশত) ইয়েমেনি রিয়েল। আমাদের এক টাকায় মোটামুটি তিন রিয়েল। এখানেই রক্ত দিতে যেয়ে আমার খুব মজা হল। একটা ইন্টার্নি ডাক্তার মেয়ে আমার রক্ত নিতে এল। আমি ডান হাতের বদলে বাম হাত থেকে রক্ত নিতে বললাম। ডাক্তার তো! গম্ভীর হয়ে ডান হাত থেকে রক্ত নিতে গেল। বহুবার সন্ধ্যানীতে রক্ত দেওয়া
