হবে। হাতে সময় খুব অল্প থাকায় তারা কিছুক্ষণ পরেই চলে গেলেন। আমরাও তাড়াতাড়ি খেতে গেলাম। এ বেলা ডিমের বদলে ডাউল এবং নূতন দুইটা আইটেম জয়তুনের তেল এবং পাকা ও সেদ্ধ করা জয়তুন ফল খাবারে যোগ হল। খেয়াল করে দেখলাম, এসব রাজসিক খাবার খেয়ে এই কয়েক দিনের মধ্যেই ঝুলে পড়া চামড়া আবার যুবক বয়সের মতো টাইট হয়ে যাচ্ছে। ঘাবড়ে গেলাম কারণ এর পরের স্টেপ মধ্য প্রদেশ স্ফীত হয়ে উঠা বা ভুড়ি হয়ে যাওয়া। এটা কোনক্রমেই হতে দেওয়া যাবেনা। দেখা যাক কি করা যায়।
বিরাট বড় মাঠে এজতেমার আয়োজনও ছিল বিশাল। মাত্র ৫ বৎসর হল এই মাঠে এজতেমা শুরু হয়েছে, অথচ এর মধ্যেই বিরাট বিরাট পাকা ডরমেটরী বানানো হয়েছে বিদেশী মেহমানদের থাকার জন্য। প্রচুর পাকা গোসলখানা ও পায়খানা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বরফ দেওয়া পানির ট্যাঙ্কিতে খাওয়ার পানির ব্যবস্থা। এছাড়া এজতেমার মাঠের বিরাট প্যান্ডেল তৈরি হয়েছে লোহার ফ্রেমের উপরে টিনের ছাউনি দিয়ে। কিন্তু নিচে শুধুই বালি। তার উপরে নীল ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দিলেও গোটা মেঝে বালুময়। সৌদি আরব ও আশে পাশের দেশগুলো থেকেও প্রচুর মেহমান এসেছেন প্রায় সবাই নিজেদের গাড়ীতে। দামী কাপড় চোপড় পড়া অথচ নির্দ্বিধায় ঐ বালুর মেঝেতে বসে নামায আদায় করছেন, বয়ান শুনছেন। আমাদের প্রথম দিকে একটু সংকোচ হল। কিন্তু পরিবেশের কারণে আমরা ছিলাম নিরুপায়। তবে মজার কথা, ঐ বালু থেকে উঠে দাঁড়িয়ে কাপড়ে ঝাড়া দিলে আর কোন বালু থাকে না।
এজতেমা শুরু হয়েছিল বৃহস্পতিবার বিকালে বাংলাদেশের মওলানা ফারুকের বয়ান দিয়ে এবং শনিবার সন্ধ্যার বয়ানের পর মোনাজাত হবার কথা থাকলেও পরের দিন রোববার সকাল এগারটার দিকে আখেরী বয়ান শেষে মোনাজাত হল। বাংলাদেশ থেকে মওলানা ফারুক সহ চারজন মুরুব্বী এবং ইন্ডিয়া থেকে মওলানা আহমদ আলী লাট সাহেবসহ কয়েকজন মুরুব্বী এসেছিলেন। শুক্র ও শনিবার ভারতের লাট সাহেব বাদ মাগরিব বয়ান করলেন। তিনিই পরের দিন মোনাজাত করেছিলেন। মাশোয়ারার মাধ্যমে ঠিক হল যে সমগ্র মধ্য প্রাচ্যের জন্য কেন্দ্রীয় এজতেমা হুদাইদাতেই হবে।
এখানে এসে কিছু অদ্ভুত ঘটনা ঘটল যার কোন ব্যাখ্যা আমি পাইনি। একটা ঘটনা বলার লোভ সামলাতে পারছিনা। এজতেমার দ্বিতীয় দিনে প্রায় সবাই মাঠে চলে গেছেন। বিরাট ডরমেটরীতে তিন/চার জন সাথী বিক্ষিপ্তভাবে কাজ করছেন। এমন সময় একজন বিদেশী সাথী হলের এক কোনায় আমাদের আমিরের কাছে এসে সরাসরি বললেন, এখানে কি বাংলাদেশের জামাত আছে? তিনি সম্মতি জানালে, সেই সাথী খবরের কাগজে জড়ানো একটা প্যাকেট তার হাতে দিয়ে বললেন, মদীনা থেকে আপনাদের জন্য এই উপহারটা পাঠিয়েছেন।
