যা পাহাড়ের অনেক উপরে জন্মান হয়। এ গাছের কচি পাতাই এই নেশার উপকরণ। সন্ধ্যার পর আরো এক চমক অপেক্ষা করছিল আমাদের জন্য। গত বৎসর যে ইয়েমেনি জামাত চিল্লার সফরে পাবনা গিয়েছিলেন এবং অন্যান্য মসজিদের সঙ্গে আমাদের মসজিদেও বয়ান করেছিলেন সেই জামাতের দুই/তিন সাথী খবর পাঠিয়েছেন যে, পাবনার জামাত এসেছে সে খবর তারা পেয়েছেন এবং হুদায়দা এজতেমাতে এসে আমাদের সঙ্গে দেখা করবেন। এই জামাত খুব তাসকিল করেছিল ইয়েমেনের জন্য। মওলানা মিজানের সঙ্গে তাদের ভাল সম্পর্ক হয়েছিল এবং পরস্পরের মধ্যে মোবাইল যোগাযোগ চালু ছিল। ফলে আমরা চেনা লোকের দেখা পাব জন্য খুব খুশি হলাম। পরের দিন বুধবার ভোরে এজতেমার মাঠে যেতে হবে। সবাই খাওয়া দাওয়া সেরে শুয়ে পড়লাম।
সকালেই হুদাইদার মার্কাজের উদ্দেশ্যে আমরা সাত জন রওয়ানা হলাম। বেশ কিছুদূর এসে রোড সাইন খেয়াল করলাম, ওখান থেকে হুদাইদা ২৫০ কি.মি.। অর্থাৎ সর্বমোট দূরত্ব ২৭০-২৮০ কিলোর মধ্যেই হবে বলে মনে হল। ড্রাইভার জানাল ২৮০ কি.মি. এর কথা। অল্প কিছুক্ষণ পরই পাহাড় কেটে তৈরি করা আঁকাবাঁকা ঘোরানো পথে আমাদের গাড়ী উঠে এল। আমরা তিনজন এ ধরনের পথের সঙ্গে পাকিস্তান সফরে পরিচিত ছিলাম। বাকীদের মধ্যে একজন খুব ভীত হয়ে পড়লেন এবং মাথা নিচু করে ঘুমিয়ে সময় কাটালেন। পাহাড়ের চমৎকার দৃশ্যাবলী উপভোগ করতে করতে দেখলাম, প্রচুর না হলেও পাহাড়ী নানা ধরনের গাছের সঙ্গে বেশ কিছু আম এবং বকনীম গাছ। এমনকি প্রচুর সতেজ কলা বাগানও চোখে পড়ল। প্রায় সব আম গাছেই প্রচুর মুকুল এসেছে। মনে হল, আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখলে এবং রেজেকে থাকলে স্থানীয় আম বাড়ী যাওয়ার আগেই খাওয়া যাবে। পথের এক বাঁকে ছোট একটা মসজিদ। তার পাশের পাহাড়েই মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে সাদা ধোয়ার মতো। অত উঁচুতেও এই মসজিদটিতে ট্যাপের পানির ব্যবস্থা। আমরা ওজু করে যোহরের নামায পড়লাম। অপর এক গাড়ীর সাথীরা এবং আমাদের ড্রাইভার এক আযানে দুই একামতে যোহর এর সঙ্গে আছর এর নামাযও পড়ে নিল। আমরা হুদাইদা মারকাজে যেয়ে আছরের নামায পড়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।
বিকাল প্রায় চারটার দিকে হুদাইদা মারকাজে এসে পৌঁছালাম। দেতালার এক ঘরে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করা হল। ঘরে আরো বিদেশী সাথীরা ছিলেন। সঙ্গে বাথরুম; প্রচুর পানি। হাত মুখ ধুয়ে নিতেই খাবার এসে গেল। ডাল, রুটি, দই খেতে বেশ ভাল লাগল, মনে হয় বেশি ক্ষুধা লেগেছিল। হুদায়দা বেশ গরম এলাকা। প্রচুর ফ্যান ঘুরছে তবু গায়ে কাপড় রাখতে কষ্ট হচ্ছে। পরে অবশ্য ঠিক হয়ে গেল। সন্ধ্যার পর ইয়েমেনি সেই তবলীগের সাথীরা এসে দেখা করলেন। আগামীকাল ২২ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার বাদ আছর এজতেমা শুরু
