তিনি একটি ইয়েমেনি বাহিনীর মাধ্যমে মক্কা আক্রমণ করে পবিত্র কাবা ঘর ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল। হুজুর (স.) এর জন্মের বৎসর অর্থাৎ পাঁচশত সত্তর খৃষ্টাব্দে এই ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছিল এবং হুজুর (স.) তার জীবন কাস্ত্রো সেই সময়ের প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেককে জীবিত অবস্থায় পেয়েছেন। বাইজেনটাইন সম্রাট জাস্টিনিয়ন (৫২৭-৫৬৫) দক্ষিণ আরব আক্রমণ ও জয় করে বিজিত এলাকার জন্য ইসিমিফাইওম কে শাসনের ভার দিয়ে দেশে ফিরে যান। এই শাসকের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে পরাজিত দক্ষিণ আরবের সৈন্যরা পুনরায় সংগঠিত হয় এবং ইসিমিফাইওমকে পরাজিত করে আবরাহাকে সিংহাসনে বসায়। আবরাহা ছিল আন্দুলিস বন্দরের এক খৃষ্টান বণিকের ক্রীতদাস। কিন্তু নিজ যোগ্যতায় ও ভাগ্যের আনুকূল্যে শেষ পর্যন্ত বাইজেন্টাইন সম্রাট জাষ্টিনিয়ার অধীনে দক্ষিণ আরবের শাসনকর্তা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়। তার অন্যতন্ত্র কীর্ত্তি “মা আরিফ” এর বাঁধের দেওয়াল পুনঃনির্মাণ ও সংস্কার। পরে সেখানে তার একটি দীর্ঘ শীলালিপি স্থাপন করে যার মধ্যে একটি যুদ্ধ জয়েরও বিবরণ পাওয়া যায়। সূত্রমতে পরবর্তীকালে বাইজেনটাইন সম্রাট বনুওয়াসের মৃত্যুর পর নূতন সম্রাট আল আসবাহা আবরাহাকে ইয়েমেনের প্রতিনিধি নিযুক্ত করেন।
ইসলাম পূর্ব যুগেও কাবা শরীফ ইহুদী ও খৃষ্টান উভয় সম্প্রদায়ের নিকট সমানভাবে মহাপবিত্র স্থান হিসাবে বিবেচিত হত। এই কাবা শরীফকে তওয়াফের মাধ্যমেই হজ্জ পালন করা হত এবং একমাত্র এই কারণেই মরুভূমির দেশ মক্কা সারা পৃথিবীতে খুবই সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ শহর হিসাবে গণ্য হত। হজ্জের সময়ের আয়ে মক্কাবাসীদের জীবনযাত্রা চলত এবং তারাও এ কারণেই খুব সম্মানিত ছিলেন। আবরাহা এটা মেনে নিতে পারলেন না। তিনি এই সম্মান, মর্যাদা ও অর্থ হাতে পেতে চাইলেন। এই উদ্দেশ্যে ইয়েমেনের একটি শহর “সানা”তে (বর্তমান ইয়েমেনের রাজধানী) একটি গীর্জা তৈরি করে সারা রাজ্যে নির্দেশ জারী করে দেন যে, এখন থেকে কাবা শরীফের পরিবর্তে সানার গীর্জা তওয়াফ করে হজ্জ পালন করতে হবে। কিন্তু ধর্মের ক্ষেত্রে যুক্তির চেয়ে মনের ভালবাসা ও আবেগকে সব মানুষ বেশি গুরুত্ব দেয় জন্য আবরাহার এই লোলুপ জিহ্বার আহ্বান কোন মানুষের কাছে গুরুত্ব পেল না। ক্ষোভে দুঃখে বাদশাহ আবরাহা এ জন্য কাবাকে দায়ী মনে করে কাবা ঘরকেই ধ্বংস করার জন্য সিদ্ধান্ত নিলেন। কিন্তু কিভাবে কাজটা করা যায়? শয়তান তাকে বুদ্ধি যোগাল যে, এসব ভাঙ্গার কাজে হাতি ব্যবহার করলে কাজ সহজ হবে। সুতরাং আবিসিনিয়ার শাসন কর্তার নিকট অনুরোধ করে তিনি হস্তিবাহিনী নিয়ে আসলেন এবং সসৈন্যে মক্কা আক্রমণের জন্য অগ্রসর হলেন। পাঁচশত সত্তর খৃষ্টাব্দের এই সম্মিলিত বাহিনী মক্কা ও তার আশে পাশের এলাকা দখল করে কাবাঘরের নিকট উপস্থিত হল। তখন কাবা ঘরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল হুজুর পাক (স.) এর দাদা
