ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

আব্দুল মুত্তালিবের উপর। তিনি কাবা ঘরের চাবি আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঘরের ভেতরে রেখে দিয়ে এবং আল্লাহর ঘর আল্লাহই রক্ষা করবেন বলে মক্কা থেকে দূরে সরে যান। আল্লাহ তার নিজের কুদরতে তখন ঐ ঘর রক্ষার জন্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাখির ঝাঁক পাঠান যাদের দুই পায়ে দুইটা ও ঠোটে একটা করে ছোট ছোট কঙ্কর দানা ছিল। ঐ সব কঙ্কর দানা যখন উপর থেকে নিচে হস্তি বাহিনীর উপর ছেড়ে দেওয়া হয় তখন তা সরাসরি হাতির শরীর ভেদ করে মাটিতে পৌঁছে এবং সমস্ত হস্তিবাহিনী চর্বিত তৃণ খন্ডের মতো নিষ্পেষিত ও ধ্বংস হয়ে যায়। পবিত্র কোরআনে এ বিষয়ে সুরা ফিল নাজিল করে আল্লাহপাক অনাগত মানুষকে তার কুদরতের নিদর্শন জানিয়ে দেন। সুতরাং সেই ধ্বংসাবশেষ দেখার আগ্রহ সবার মধ্যেই ছিল।
সানার সবচেয়ে বড় বাজার বাবে ইয়েমেনের খুব নিকটেই আবরাহার এই গীর্জার ধ্বংসস্তুপের অবস্থান। চারিদিকে বাড়ী-ঘর এমনভাবে জায়গাটাকে ঘিরে ফেলেছে যে, প্রাচীর ও গ্রীল দিয়ে ঘেরা কুয়ার মতো প্রায় বিশ/ত্রিশ হাত গভীর ঐ গর্তটাকে সাধারণ একটা মজে যাওয়া বা ভরাট হয়ে যাওয়া পাথর দিয়ে বাঁধানো ইন্দারা বলে মনে হবে। নিচে ভরাট মাটির উপরটা কিছু ঘাস ও আগাছা ঢেকে ফেলেছে। ধারে দুইটা ডুমুর ও কিছু ফিলফিল গাছ পাঁচ/সাত হাত করে লম্বা হয়ে এক রকম ঝোপের মতো চেহারা নিয়েছে। দেওয়ালের গায়ে কোন কিছু লেখা নাই। ফলে কেউ বলে না দিলে এটা কি সে সম্পকে কিছু বোঝা যাবেনা। এর সামান্য উত্তর-পূর্বে হুজুর (স.) এর নির্দেশে যে মসজিদটি তৈরি করা হয়েছিল সেই ছোট্ট মসজিদটির অবস্থান। চারদিকেই সম্প্রসারণ করে এখন তা এটা বিরাট মসজিদ ও মাদ্রাসায় রূপান্তরিত হয়েছে। মধ্যে একটা চতুস্কোন ঘরের মতো যার দরজা জালানা নাই অথচ সুন্দর ভাবে নক্সা করা। আশে পাশের কেউ মুঠিষ্কভাবে কিছু জানাতে পারলনা এবং একেক জন বিভিন্ন রকম কথা বলল। প্রাচীন মসজিদটি সংস্কার করা হচ্ছে তাই তার দরজাগুলো বন্ধ করে ভেতরে কাজচ্ছে। কাঠের তীর ও বর্গা দিয়ে তৈরি ছাদ এখনও ঠিক আছে। তবে তীর ও বগংেঙ্খলা সুন্দর করে নক্সা ও রং করা। দেখে মনে হল, কোন এক সময় আগের ছাড় কষ্ট হয়ে গেলে নতুন করে এই নক্সাদার কাঠের ছাদ তৈরি করা হয়েছিল। নতুবা চ্ছ যুগের ছাদ ও কাঠ এত ভাল থাকার কথা নয়। দেওয়াল গুলো আড়াই হাতের তো চওড়া। তার উপরের প্লাষ্টারিং চটানো হচ্ছে নতুন করে প্লাষ্টরিং ও রং করা উদ্দেশ্যে। যোহরের সময় হতে তখনও অনেক দেরী ছিল জন্য সবাই দুখুলুল মসজিদ ও কিছু নফল নামায আদায় করে পরবর্তী গন্তব্যের জন্য আমরা গাড়ীতে উঠলাম।
দূরত্ব এত কম যে গাড়ীতে না উঠলেও আরামে বাজার পর্যন্ত হেঁটেই আসা যেত। বাবে ইয়েমেন এক বিশাল বড় মার্কেট। এখানে দেশী বিদেশী সব ধরনের

« <
/ 114
> »