ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

সর্বমোট পঁয়ত্রিশ হাজার মুসল্লি একত্রে নামায আদায় করতে পারে। বিভিন্ন জায়গায় আধুনিক অজু, এস্তেঞ্জার ব্যবস্থা ছাড়াও পায়ের চপ্পল ইত্যাদি রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা কার্ড সিষ্টেম এবং কার্ড ছাড়াও রাখা যায় এবং এ জন্য কোন ক্ষেত্রেই পয়সা দিতে হয় না। আমরা ওখানে কিছুক্ষণ কোরআন তেলাওয়াত ও তাসবিহাত শেষে যোহরের নামাজ আদায় করে গাড়ীতে এসে উঠে বসলাম।
আজ ১১ই মে আমাদের আজকের গন্তব্যস্থল বাদশাহ আবরাহার তৈরি নকল কাবা ঘরের ধ্বংসাবশেষ দেখতে যাওয়া। পথে যেহেতু ইয়েমেনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও বুজুর্গ মওলানা আব্দুল আলা জিন্দানীর মাদ্রাসা জামেয়া ঈমানিয়া পড়বে সে জন্য প্রথমে ওখানে যেয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করে ফায়েজ ও বরকত নেওয়ার আশা ছিল। মওলানা গুরুতর অসুস্থ্য জন্য গত তিন/চার দিন তাঁকে কারো সঙ্গেই দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং কথার্বাতা বলা একদম নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা। ফলে অবরুদ্ধ আশা বাইরের সুন্দর সোনাঝড়া সবুজ পৃথিবীর আলো দেখা থেকে এখানেও বঞ্চিত হল। ফারসী কবি এ জন্যই বোধহয় বলেছেন:
“আজব দরদেন্তে আন্দার দিল আগর গুইয়ম জবা সুজাদ আগার দরদিল নেহাঁ দারম দেমাগ ও উস্তো খাঁ সুজাদ”।
কথাটাকে বাংলায় এভাবে বললে কেমন হয়?
বুকের মাঝের গোপন ব্যাথা জ্বালায় এ মন সর্বক্ষণে
সেই আগুনে পুড়ায় জিহ্বা, হাড়, মজ্জা, মাংস ও মনে।
পরে পাণ্ডুলিপি দেখে মওলানা মাসউদ এটাকে এভাবে সংশোধন করে দিলেন, বুকের মাঝে দারুন ব্যথা, বলতে গেলে জিহ্বা পোড়ে
আর লুকিয়ে রাখতে গেলে হাড়, মজ্জা মগজ পোড়ে।
আল্লাহ দুনিয়াকে মুমিনের জন্য বানিয়েছেন কারাগার আর কাফেরদের জন্য একে করা হয়েছে বেহেশত। তাই মুমিন আখেরাতের চিরস্থায়ী মঙ্গলের আশায় দুনিয়াতে অল্প সময় কষ্ট করতে দ্বিধা বোধ করেনা। কিন্তু কাফেরদের তো আখেরাতে কোন পাওনা নাই শুধুমাত্র আজাব ছাড়া তাই তারা দুনিয়াতেই সর্বসুখ প্রত্যাশা করে। তাদের সম্মুখে একটা সোনার উপত্যকা দিলেও তারা আরো একটা সোনার উপত্যকা পেতে আকাঙ্খা করে। বেচারা আবরাহার ক্ষেত্রেও দেখা যায় এই ঘটনা।
প্রায় অজ্ঞাত কুলশীল আবরাহা খৃষ্টীর ষষ্ঠ শতাব্দির মধ্যভাগে দক্ষিণ আরবের একজন খৃষ্টান শাসক ছিলেন, ইসলামের ইতিহাসে তার প্রসিদ্ধির কারণ,
ইয়েমেনে একশত বিশদিন- ১১৩

« <
/ 114
> »