সুযোগ পেতে পারে। বাধ্য হয়ে এ পথও ছাড়তে হল। অবশেষে দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হল। তারা বিশেষ অনুমতির ব্যবস্থা করে বৈধভাবেই আমাদের নিয়ে যেতে চাইল কিন্তু ওমরার জন্য আমরা যে টাকা জমা রেখেছিলাম তার দ্বিগুনের কিছু বেশি মাথাপিছু দাবী করল। হাতে সময় কম তাই মোবাইলে হাজী মুনির ভাইয়ের মেয়ে জামাই এর সঙ্গে রিয়াদে যোগাযোগ করে এই শর্তে টাকার ব্যবস্থা করা হল যে, আমরা পাবনা এসে বাংলাদেশী টাকায় ধারের টাকা মুনির ভাইকে ফেরৎ দেব এবং তিনি জামাই এর জন্য যে বাড়ী বানাচ্ছেন তাতে সে টাকা খরচ করবেন। আমরা তো আনন্দে লাফিয়ে উঠলাম। কিন্তু এবার আল্লাহর ফয়সালা ছিল অন্য রকম। আমাদের এক সাথী এ ব্যবস্থায় যেতে অস্বীকার করে বললেন যে, এর চেয়ে কম টাকায় বাংলাদেশ থেকেই তিনি যাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারবেন। অথবা বিকল্প হিসাবে তাকে সানায় রেখে আমরা যদি যেতে চাই তাতেও তিনি রাজী আছেন।
বাড়া ভাতে ছাই পড়ার পর চেহারা যেমন হয় আমাদের অবস্থা এখন সে রকম। শেষ পর্যন্ত আমাদের দোয়া, নামায, রোযা সবই জমা থেকে গেল। আসমানী ফয়সালা মনে করে অনেক আলোচনার পর ঠিক করা হল যে, পুরা জামাত ছাড়া ওমরাতে যাওয়া উচিৎ হবে না। বিকল্প না থাকায় পুরাতন সানার ঐতিহাসিক স্থানগুলো দেখে মনকে কিছুটা প্রবোধ দেওয়া যাবে। দুধের স্বাদ ঘোলে মিটানোর মতো আরকি। তখনই মার্কাজে ভাই লাবিব এর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য আমীর সাহেব মাশোয়ারা শেষ করে উঠে দাঁড়ালেন।
পরের দিন ১০ই মে। নাস্তার পর হাতে পানির বোতল নিয়ে নিচে নেমে গাড়ী ঠিক করা হল। প্রথমে যাওয়া হবে জাতীয়ভাবে নির্মিত সালেহ জামে মসজিদে। এবং যোহরের নামায ঐ মসজিদে পড়া হবে। বিরাট এলাকা জুরে অনেকটা মদীনা মনোয়ারার আদলে এই মসজিদ কমপ্লেক্সটি তৈরি হয়েছে। মসজিদ কমপ্লেক্সের চার দিকেই রাস্তা এবং কমপ্লেক্সও রাস্তার অপর পাড়ে নয়নাভিরাম ফুল বাগান তৈরি করা হয়েছে যা চোখকে চুম্বুকের মতো টেনে রাখে। প্রশস্ত গাড়ী পার্কিংসহ নানা আয়োজন প্রায় তিনতালা সমান উঁচু ছাদ, ফলে ঘরের ভেতরে চমৎকার শীতল স্নিগ্ধতা, কেমন যেন একটা পবিত্র আবহাওয়ার জন্ম দিয়েছে। বেশ পুরু কার্পেট পুরা ঘর জুরে। বিশেষ ডিজাইনে তৈরি করা। নব্বইটা কাতার এবং প্রত্যেক কাতারে দুইশত/দুইশত পঞ্চাশ জন মুসল্লি বসতে পারবেন। প্রথম কাতারের সামনে প্রায় সমসংখ্যক কোরআন শরীফ রেহেলের উপর রাখা। চমৎকার সুগন্ধি বাতাস পিলার গুলোর নিচের দিক দিয়ে বের হয়ে আসছে। প্রতি শুক্রবার প্রেসিডেন্ট নিজে জুমার নামাযে অংশ নেন এবং এছাড়াও যখনই সময় ও সুযোগ পান ওয়াক্তিয়া নামাযে যোগ দেন। বাইরে নিরাপত্তা রুক্ষীরা বলল, মসজিদের ভেতরে পঁচিশ হাজার এবং বাইরে দশহাজারসহ
