শেষের কথা
নয় তারিখ সকাল প্রায় দশটার পরপরই সানা মার্কাজে এসে পৌঁছালাম। এবার আর কোন রোখ নয়। এবার শুধু বিশ্রাম আর দেশে ফেরার সময়কে কাছে নিয়ে আসা। তবে আমাদের মনের মাঝে যে স্বপ্নগুলো লুকিয়ে লুকিয়ে স্বপ্ন দেখত সুযোগ ও সুবিধা বুঝে তারা এবার মুখ বের করে উঁকি ঝুঁকি দিতে লাগল। যেমন পুরাতন সানার সূর্য উপাসক সম্রাজ্ঞী বিলকিসের সিংহাসন এর স্থানটি যা আরশে বিলকিস নামে খ্যাত তা এই সুযোগে দেখে নেয়া। এছাড়া আছে আসহাবে জান্নাহ এবং আবরাহার তৈরি করা উপাসনালয় যা সে কাবার বিকল্প হিসাবে তৈরি করে ক্ষমতার দাপট দিয়ে কাবার মতো সম্মানীয় ও অতীব মহিমান্বিত হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিল। তবে সবচেয়ে বেশি যে ইচ্ছাটা সকলের হৃদয়ের গভীর তন্ত্রীতে পুরা সফরেই অনুরণন তুলেছে তা ছিল “ওমরা” করা। ঐ নিয়ত পূরণের ঐকান্তিক ইচ্ছায় কয়েকদিন সময় হাতে নিয়েই যে আমরা সানায় এসেছিলাম তা বোধ হয় না বললেই চলে। এ কারণেই আল্লাহর ঘরের উদ্দেশ্যে ওমরা করার ঐকান্তিক ইচ্ছায় প্রত্যেকেই দেশে থেকেই নিজের বেডিং এর মধ্যে ইহরামের কাপড় নিয়ে এসেছিলাম। আমাদের জামাতের ছয় জনের মধ্যে পাঁচ জনের আগে থেকেই নিজের ইহরামের কাপড় বাড়ীতে ছিলই, তাই নতুন করে কেনারও প্রয়োজন হয়নি। প্রতিটি এলাকায়ই আমরা ওমরা সম্পর্কে সুযোগ পেলেই খোঁজ খবর নিয়েছি- অনেককে এ বিষয়ে সাহায্য করার জন্য অনুরোধও করেছি। কিন্তু আল্লাহর ফয়সালা আমাদের এই ইচ্ছার পক্ষে ছিল না। ওমরা বা হজ্জ্বের ক্ষেত্রে ইয়েমেনিদের জন্য নিয়ম হল মাথা পিছু ৩,০০০/-(তিন হাজার) ইয়েমেনি রিয়েল দিলেই পনর দিনের জন্য সীমান্ত থেকেই বৈধভাবে অস্থায়ী ভিসা পাওয়া যায়। মাত্র পঞ্চাশ/ষাট মাইল গেলেই সৌদি আরব সীমান্ত এবং প্রত্যেক দিন প্রচুর ট্রাক ইত্যাদি বিভিন্ন মাল নিয়ে সে দেশে যায়। এ ছাড়া যারা চাকুরীজীবি তারা তো বৈধ ও অবৈধ উভয় পথেই যাতায়াত করে। আমাদের ইচ্ছা ছিল, আইন সম্মত অস্থায়ী ভিসা নিয়ে মক্কা যাওয়ার। মক্কা এখান থেকে মাত্র এক হাজার কিলোমিটার। কিন্তু কেউ এ বিষয়ে আমাদের সাহায্য করতে পারলেন না। শেষ পর্যন্ত প্যাকেজ ট্যুর যারা আয়োজন করেন তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হল। কিন্তু সুবিধা হল না। তারা মাথাপিছু তিন লক্ষ ইয়েমেনি রিয়েল সাকুল্য খরচ বাবদ চাইল যা আমাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব ছিলনা। তাই সানায় দুতাবাসের মাধ্যমে শেষ চেষ্টা করলাম। কিন্তু সেখানেও কোন সুফল হল না। বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া সাধারণভাবে কেউ অন্ততঃ এক বৎসর ইয়েমেনে থাকলে তবেই বৈধভাবে অস্থায়ী ভিসা নিয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার
