ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

আমাদের জামাতের সর্বশেষ মসজিদ ছিল মসজিদ হারিয়া। এখানেও দুই দিন থাকলাম। রেদায় আমাদের অবস্থানের মেয়াদ শেষ হয়ে গেল। এবার এল বিদায়ের পালা। আগামীকাল ভোরে এখান থেকে সানার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার কথা। আশে পাশের অনেক মসজিদের সাথী বিদায়ী সাক্ষাৎ এর উদ্দেশ্যে এলেন এবং অনেক রাতে বাড়ী ফিরে গেলেন।
অনুরোধ ছিল আর মাত্র একদিন থাকার জন্য। কিন্তু মাশোয়ারায় অনুরোধটি রাখা সম্ভব হলনা। বরং ভোরেই রওয়ানা হতে সবাই একমত হওয়ায় উনাদের সেটাই জানিয়ে দেওয়া হল। ফজরের নামাযের জামাত-এ ঘর ভরে গেল। আশে পাশের বিভিন্ন মসজিদের সাথীরা আমাদের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাতের জন্য ফজরের জামাতেই এসে উপস্থিত হয়েছেন। আমাদের জন্য তাদের এই আন্তরিক ভালবাসার মধ্যে এতটুকুও খাদ বা ভেজাল নাই। একজন প্রকৃত মোমিন তার ভাই এর জন্য যা করে তা মন-প্রাণের দরদ ঢেলে দিয়েই করে। লোক দেখানো বা ছলনা দিয়ে মন ভোলানোর মানষিকতা থাকে সেখানে অনুপস্থিত। তাই আমাদের মাল সামানা গাড়ীতে উঠনোর পরে এবং আমাদের গাড়ীতে উঠার পূর্ব মুহূর্তে বুকে বুক মিলিয়ে অঝোর কান্নার যে ঝর্ণাধারা উভয় পক্ষের গাল বেয়ে দাড়িতে এসে ঠাঁই নিল তার মধ্যে কৃত্তিমতার কোন ছোঁয়া ছিল না, ছিল না কোন অভিনয়। মুখে কথা ছিল খুব কম অথচ বুকে বুকে কথার ঝড় বয়ে যাচ্ছিল। তার মধ্যেই মনে পড়ে গেল,

“ক্ষমা কর, ধৈর্য ধর, হোক সুন্দরতর বিদায়ের ক্ষণ,
মৃত্যু নয়, ধ্বংস নয়, নহে বিচ্ছেদের ভয়, শুধু সমাপন।”

আমরা যারা নিজের মনের কথা গুছিয়ে বলতে পারি না কবি সাহিত্যিকরা তো তাদের মনের কথাই তাদের লেখনিতে সাজিয়ে রাখেন আমাদের প্রয়োজনে কাজে লাগানোর সুবিধার্থে। আসলেই তো। চার মাস আগে সারা আলমের মুসলমান ভাইয়ের মঙ্গলের জন্য অপর মুসলমান ভাইয়ের ফিকিরের যে কর্মশালা শুরু হয়েছিল তার আজকে সমাপ্তি- সফল সমাপ্তি কি না তা বলতে না পারলেও সু-সমাপ্তি যে হল সে বিষয়ে সন্দেহের কোনই অবকাশ নাই। অবশেষে আবেগ এক সময় প্রয়োজনের কাছে হার মানল। গাড়ীর চাকা ধীরে ধীরে সামনের দিকে সানা অভিমুখে চলতে শুরু করল।

« <
/ 114
> »