ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

মধ্যেই ছেড়ে দিল। রৌদ্রতাপে আমার বোধশক্তি, শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি বিকল হয়ে গেল। তিন দিন পর্যন্ত তারা আমাকে এমনিভাবে রাখল। তৃতীয় দিন আমাকে বলল, তুমি যে ধর্ম গ্রহণ করেছ, সেটি ছেড়ে দাও। আমি তাদের কথা কিছুই বুঝলাম না। কারণ আমার ইন্দ্রিয় বিকল হয়ে গিয়েছিল। আমি আকাশের দিকে আঙ্গুলি তুলে তাওহীদের ইশারা করতে লাগলাম। আমি যুগপৎ এই আযাব সয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ বুকের উপর পানিসহ বালতির শীতলতা অনুভব করলাম। আমি বালতি ধরলাম এবং তা থেকে এক শ্বাসে পানি পান করলাম। এরপর বালতিটি আমার কাছ থেকে নিজেই সরে গেল। আমি দেখলাম সেটি আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে ঝুলন্ত রয়েছে এবং আমার নাগালের বাইরে রয়েছে। অতঃপর দ্বিতীয়বার আমার কাছে বালতি আনা হল। আমি এক শ্বাসে পানি পান করতেই বালতি তুলে নেওয়া হল। আমি বালতির দিকে দেখছিলাম। বালতিটি আবার আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে ঝুলে রইল। অতঃপর তৃতীয়বার বালতিটি আমার দিকে আনা হল। এবার আমি বালতি থেকে মন ভরে পানি পান করলাম এবং মাথায়, মুখমন্ডলে এবং কাপড়েও পানি ঢেলে নিলাম। লোকেরা যখন তাদের তাঁবু থেকে বাইরে এল, তখন আমাকে জিজ্ঞাসা করল, তোমার কাছে পানি কোথেকে এল? আমি বললাম, আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে এসেছে। এ অবস্থা দেখে তারা বলে উঠল- আমরা সাক্ষ্য দেই যে, তোমার রবই আমাদের রব। এখানে তুমি যা কিছু পেয়েছ, তোমার রবের কাছ থেকেই পেয়েছ। এরপর তারা সকলেই মুসলমান হয়ে গেল এবং রাসূল্লাহর (স.) দিকে হিজরত করল। আমার শ্রেষ্ঠত্ব এবং আমার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ তারা মুক্তকণ্ঠে স্বীকার করত।
আল্লাহর তরফ থেকে যে বেহেস্তি পানি পান করানো হল সেটাও তিন শ্বাসে পান করানোর স্পষ্ট উল্লেখ এখানে দেখা যাচ্ছে। আমরা নিজেদেরকে বিজ্ঞানমনস্ক বলে ভাবতে ভালবাসি এবং সব কিছুতেই বিজ্ঞানের আপাত-আবিষ্কারকেই সত্যের চূড়ান্ত মাপকাঠি বলে মনে করি। সে হিসেবেও এ কথা সত্য যে, প্রথমে পিপাসার কারণে গলা শুকিয়ে থাকে জন্য হাঠৎ করে প্রচুর পানি পান করা বিপদজনক এবং অবৈজ্ঞানিক। তাই প্রথম ও দ্বিতীয় শ্বাসে অল্প অল্প করে পানি পান করে কণ্ঠনালিকে ভিজিয়ে স্বাভাবিক করার পরে তৃতীয়বারে কাঙ্খিত পরিমাণ পানি পান করাই বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত এবং যুক্তিযুক্ত। আলহামদুলিল্লাহ। ইসলামে এমন কোন বিধানই খুঁজে পাওয়া যাবে না যা মানুষের সর্বোত্তম মঙ্গলের জন্য নির্দ্ধারিত নয়। লাখো কোটি শুকরিয়া তাঁর পাক দরবারে যে, তিনি তাঁর অশেষ করশা ও মেহেরবাণীতে আমার মতো নাচিজ বান্দাকেও ইসলামের মতো দৌলত দিয়ে তাঁর একত্বের ঘোষণাকারীদের মধ্যে শামিল করেছেন এবং মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহর (স.) উম্মতের দলভূক্ত করেছেন। আমিন।

« <
/ 114
> »