ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

বীর-এ-লাহিস এর পর মার্কাজ থেকে এবারে একসঙ্গে সাতটা মসজিদে আমাদের রোখ দিয়ে রেদায়-এ আমাদের অবস্থানের মেয়াদ পুরা করে দেওয়া হল। মসজিদ গুলো হলো আল খাবা, আল খায়ের, আল হিদায়াহ, আল আনছার, আল জাওয়ালী, আল মুসাল্লাহ ও আল হারিয়া। এসব মসজিদে উল্লেখযোগ্য তেমন কোন ঘটনা ঘটল না। তবে মসজিদে আনসারে এসে হঠাৎ করে একটা পরিবর্তন হল। মসজিদ কর্ণল আসাদের সাথীরা তাদের মসজিদে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছিলেন। বৃহস্পতিবারে এসে তারা এত অনুরোধ করছিলেন যে, সানার অবস্থানের মেয়াদ দুই দিন কমিয়ে কর্ণল আসাদ মসজিদে আগে যাবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। সাথীরা খুশি হয়ে শুক্রবার সকালে এসে তাদের মসজিদে নিয়ে গেলেন। বড় জুমা মসজিদ। প্রায় সব কিছুই আর সব মসজিদের মতো একই রকম। শুধু দুইটা জিনিষ নূতন। অজু খানায় ঢোকা ও বের হওয়ার সময় বড় অগভীর চৌবাচ্চায় পা না ডুবিয়ে কোন উপায় নাই। সংলগ্ন বিরাট বড় গোরস্তান যার এক দিকে কিছুটা স্থান প্রাচীর দিয়ে পৃথক করে রাখা। ভেতরে কিছু পাকা কবর। মনে হল যারা মসজিদের জন্য জমি দিয়েছেন তারাই এ অংশটি তাদের পারিবারিক গোরস্তান হিসাবে পৃথক করে রেখেছেন।
বিকালের গাস্তের আগে ছোট্ট একটা জিয়ারা। প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে দুই পাহাড়ের মধ্যে বাঁধ দিয়ে বৃষ্টির পানি ধরে রেখে সেই পানি জমিতে সেচের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। পাহাড়ী মানুষের কাছে এটা বিরাট কিছু। দুই ধারে পাথর গেঁথে তার মধ্যে মাটি ফেলে ভরাট করে তার উপরে আবার বড় বড় পাথর চাপা দিয়ে বাঁধ তৈরি করে পানি আটকানো হয়েছে এবং নিচে দুইটা বড় সেচের পাইপ বসিয়ে মেশিন দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাঁধের দৈর্ঘ্য পঞ্চাশ/ঘাট মিটার এবং পানির সঞ্চয় এখন প্রায় তলানীতে ঠেকে আছে। ফলে পানির মধ্যে বেশ কিছু আগাছা (শেওলা) জন্মেছে। কিছু ডুবুককুরী ধরনের ছোট ছোট জলজ পাখী পানির ভেতরের পোকা ডুব দিয়ে ধরে খাচ্ছে। স্থানীয় সাথীরা খুব গর্ব বোধ করছিলেন। আমি শুধু মনে মনে হাসছিলাম। কর্ণল আসাদ এর এই পানির রিজার্ভ দেখে যারা গর্ব বোধ করছে তারা যদি কোন ভাবে আমাদের কাপ্তাই লেক দেখতে পারত! পাহাড়ের অফুরন্ত পানিকে কি অসীম জলাধারে রূপান্তর করে তার সাহায্যে বিশাল বিদ্যুতের ভান্ডার, মৎস্য চাষের সুযোগ এবং চাষের জন্য জমিতে পানি ব্যবহারের যে বিশেষ সুবিধা সৃষ্টি করা হয়েছে তা দেখে তাদের কি চোখের পলক ফেলার কথা মনে থাকত?
ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলে অসংখ্য কুয়া আছে যার পানি স্থানীয় সকল বাসিন্দা ব্যবহার করে। কিন্তু ইয়েমেনের একটি বিশেষ কুয়ার কথা হাদিস শরীফে আছে যার পানি সবচেয়ে মিষ্টি ও বরকতময়। হুমাম ইবনে নুফায়েল সাদী বর্ণনা করেন, “আমি রসুলল্লাহ (স.) এর কাছে উপস্থিত হয়ে আরয করলাম, আমরা

« <
/ 114
> »