নিচু থেকে উঁচু সম্পূর্ণ সলিড পাথরের যা একদম পুরাটাই প্রাকৃতিক। মাটি থেকে প্রায় একশত পঞ্চাশ ফিট উঁচু এবং কোন রকমে উঠা যায় এরকম এবড়ো থেবড়ো পাহাড় এবং তারপর একদম খাড়া একশত ফিট উঁচুতে উঠতে উপায়ান্তর না পেয়ে বাধ্য হয়ে লোহার সিঁড়ি বানানো হয়েছে। একশত আঠার ধাপ উঠলে একটা ফাটলের ভেতর দিয়ে কুয়ার দেওয়ালের ভেতরে ঢুকতে হয়। সেখানে কুয়ার চারদিকেই পাথরের চওড়া কার্নিস এবং তার পাশেই চারদিকেই খাড়া পাহাড় যা সাধারণভাবে ডিঙ্গানো যায়না। তাতে মাঝে মধ্যে বসার মতো খোদল। খাড়া পাড় অসম্ভব বড় ইন্দারার মতো সোজা নিচে নেমে গেছে। কিন্তু একদম সমতল না বরং তিন থাকে ভাগ হয়ে। আনুমানিক প্রায় দুইশত ফিট নিচে পরিস্কার ও স্বচ্ছ পানি। কিন্তু ওখানে নামার বা যাওয়ার কোন ব্যবস্থা নাই। পাড়ের চার ধার দিয়ে লোহার রেলিং দেওয়া যেন কেউ নিচে পড়ে না যায়। মাঝে মধ্যেই দেওয়ালের মধ্যে গুহার মতো অনেক থাক বা আলনা আছে। চওড়া অন্তত একশত/একশত পঁচিশ গজ হবে বলে মনে হয়। প্রচুর দর্শক প্রত্যেক দিন আল্লাহর এই অপূর্ব সৃষ্টি দেখতে এখানে ভির করে। অদ্ভুৎ ব্যাপার যে, এখানে আশে পাশে অন্য কোন পাহাড় নাই। কুয়ার মাঝামাঝি বেশ কিছু জংলী কবুতর বাকবাকুম করে সারাদিন।
এই কুপের অপর দিকে প্রায় চল্লিশ/পঞ্চাশ গজ পশ্চিমই একটা উষ্ণ প্রস্রবন। এটিও একটি পাহাড়ী কুয়া এবং প্রাকৃতিক এই বিশাল কুয়াকে ঘিরে পর্যটকদের জন্য একটি হোটেল কোম্পানী সুন্দর ব্যবস্থা করেছে। প্রস্রবনের মধ্যের পানি প্রচন্ড গরম জন্য ওখান থেকে পাইপে করে গরম পানি এনে একটা সুইমিং পুলের ভেতরে দেওয়া হয়েছে। ফলে হালকা গরম মিশ্রিত এই পানিতে নেমে প্রত্যেক দিন অসংখ্য দর্শক প্রাকৃতিক চিকিৎসা হিসাবে গোসল করে। প্রত্যেকবার গোসলের জন্য হোটেল কর্তৃপক্ষ পঞ্চাশ ইয়েমেনি রিয়েল নেয়। এমনিতে পানিতে নেমে হাত মুখ ধুতে কোন অর্থ দিতে হয় না বা কোন অসুবিধা নাই। লোকের বিশ্বাস যে এই পানিতে কয়েকদিন নিয়মিত গোসল করলে চর্মরোগ সেরে যায়। কথাটি কতটা বিজ্ঞান সমর্থিত তা বলা মুশকিল। তবে প্রাকৃতিক পানি তার চলার পথে গন্ধক, ফসফরাসসহ অনেক খনিজ পদার্থের সংস্পর্শে আসে এবং গন্ধকের চর্মরোগ নিরাময় সংক্রান্ত বিষয়টি সত্য হিসাবে অনেক প্রাচীন। প্রায় চারশত বছরের এই উষ্ণ প্রস্রবন ও প্রাকৃতিক কুয়াকে ঘিরে বেশ বড় একটা পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে এবং হোটেল ব্যবসা এখানে জমজমাট। দেশ বিদেশের প্রচুর দর্শক প্রত্যেকদিন এখানের হোটেল ব্যবসাকে আরো সম্প্রসারিত করে তুলছে। চমৎকার পাহাড় ও প্রাকৃতিক মনোরম দৃশ্যাবলী এবং সুন্দর করে বানানো পিচ ঢালা রাস্তা কর্তৃপক্ষের দূরদৃষ্টির পরিচয় বহন করে। দামত এর গুরুত্ব দিন দিনই বাড়ছে বলে সাথীরা জানালেন।
