ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

কথাটা বলার আগে কিছুটা পিছনের কথা বলা দরকার। হাজী মিজান ভাই বড় মশারী আনায় সাইফুল ভাই আর নিজের মশারী সঙ্গে নেননি। তিন/চার জন শোয়া যায় এমন বড় মশারীতে উনারা দুইজন এই সাড়ে তিন মাস সহ অবস্থান করেছেন। গত সপ্তাহে মার্কাজে মশারী টাঙ্গানোতে সমস্যা হওয়ায় সাইফুল ভাই মশারী ছাড়াই রাত্রে ঘুমাতে চেষ্টা করেছেন। সেদিন মশারা এমন রাজকীয় ভোজে কেউ বাদ পড়েনি। ফলে সকালে দুই হাত বের করে আমাদের লাল লাল দাগ দেখিয়ে বললেন, আজকেই একটা মশারী কিনব। সঙ্গে সঙ্গেই খোঁজ পাওয়া গেল, মার্কাজের এক সাথী মশারী বিক্রেতা। সুতরাং তার খোঁজ করা হল, পেলামও প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই। তার ব্যাগে তখনও হালকা নেটের একটা মশারী আছে দাম ১,০০০/- (এক হাজার) ইয়েমেনি রিয়েল অর্থাৎ আমাদের দেশের প্রায় ৩৩৫/- (তিনশত পঁয়ত্রিশ) টাকা। ফলে সঙ্গে সঙ্গেই মশারীটা কিনে নেওয়া হল। তারপর নাস্তা শেষে আমরা আল নাজ্জারী মসজিদে চলে এলাম। সফরে এই প্রথম রাত্রে একা মশারী খাটিয়ে সাইফুল ভাই রাত কাটালেন।
পরের দিন সকাল আটটার দিকে ঐ মশারী বিক্রেতা সাথী উপহার হিসাবে কিছু কলাসহ আমাদের সঙ্গে দেখা করতে এলেন। অনেক সংকোচের সঙ্গে তিনি যেটা বললেন তা হল, মশারী বিক্রী করতে তার ভুল হয়ে গেছে। আমরা সাইফুল ভাইকে বললাম, জিনিষ যখন কেনা হয়েছে তখন যে টাকা বেশি দিতে হবে তা এখনই দিয়ে দেন। ঝামেলা মিটে যাক। আমির সাহেব তাকে সে কথা বলতেই তিনি জিহ্বায় কামড় খেয়ে যা বললেন তা আর কোনদিন শুনব কিনা সন্দেহ। তিনি বাড়ী যেয়ে তালিকা মিলিয়ে বুঝতে পারেন যে, আসলে ঐ মশারীর বিক্রি দাম ৮০০/- (আটশত) রিয়েল। তাই তিনি গাড়ী ভাড়া করে এবং ১৫০/-(একশত পঞ্চাশ) রিয়েলের কলা উপহার হিসাবে নিয়ে সেই অতিরিক্ত ২০০/-(দুইশত) রিয়েল ফেরৎ দিতে এসেছেন। এই মিথ্যার যুগে একি বিশ্বাস করা সম্ভব? পৃথিবীতে এখনও এমন মানুষ আছে। আসলে সাহাবীদের বংশধরদের আখলাক এখনও যে কত সুন্দর এরকম আরো অনেক নজির দেখে আমাদের বিশ্বাস করতেই হয়েছে।
শহর রেদায় থেকে দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত ‘দামত-‘ এ দুইটা প্রাকৃতিক বিস্ময় আছে যা পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। প্রথমটি একটা পাথরের কুয়া এবং অপরটি একটি উষ্ণ প্রস্রবন। পাকা রাস্তা ও থানা সংলগ্ন এই প্রাকৃতিক কুয়াটি প্রকান্ড। মাটি থেকে প্রায় দুইশত পঞ্চাশ ফিট উঁচা এই কুয়াটি সাধারণ কুয়ার মতোই পাথরের দেয়াল ঘেরা এবং এই দুইশত পঞ্চাশ ফিট দেওয়াল নিরেট পাথরের তৈরি। এবড়ো থেবড়ো এই দেয়ালে কোন জোড়া নাই এবং আমাদের দেশের প্রাচীরকে ভাঙ্গনের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য যেমন ইট গেঁথে দেওয়ালে ঠেক দেই ঠিক এ রকম ভাবেই চার দিকে চারটা ঠেকা দেওয়া এবং

« <
/ 114
> »