কলাগাছের বাঁকী অর্দ্ধেক দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় এবং তিন স্থানে দড়ি দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়। তারপর এভাবে প্যাকেট করা কলাগাছ গুলো মোটর গাড়ীতে চড়িয়ে পাশের একট দেশে মূলতঃ গোপন ভাবেই বিক্রীর জন্য পাঠানো হয়।
আমরা দুই দিন এখানে ছিলাম এবং দুই দিনই একই দৃশ্য দেখলাম। শুনলাম কোন কোন জায়গায় শাকের মধ্যে একই ভাবে কাদ প্যাক করে শাক হিসাবে বিদেশে চালান দেওয়া হয়। কাদ শুধু ক্ষতিরই কারণ নয়। কাদের প্রসারের ফলে বিদেশী সিগারেট এর অনুপ্রবেশ খুব কমে গেছে। সিগারেট খুব কম চলে। ফলে ঘরের টাকা নেশার কারণে বিদেশে পাচার না হয়ে বরং ঘরেই থাকে। অসংখ্য লোক কাদ লাগনো, পরিচর্যা, কাদ তোলা ও বিক্রিসহ বিভিন্ন কাজ এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় জীবন যাত্রার দাম যেমন বেড়েছে তেমনি মানও বেড়েছে। যেমন, এদেশে পাথর এর ঘর বানানোর মিস্ত্রীর হাজিরা দৈনিক তিন হাজার ইয়েমেনি রিয়েল। তেমনি আলুর কেজি ২০০/- (দুইশত), টমেটু ১৫০/-(একশত পঞ্চাশ), পেয়াজ ১৫০/- (একশত পঞ্চাশ)। সবচেয়ে কমদামী চাল ২০০/- (দুইশত), গরুর গোস্ত ১,২০০/- (এক হাজার দুইশত) তবে বাছুর ২,০০০/- (দুই হাজার), মুরগী ছোট ১,০০০/ (এক হাজার), দুম্বা ২,০০০/-(দুই হাজার) রিয়েল প্রতি কেজি অথচ সবাই ভাল খাওয়া দাওয়া করেন আর্থিক স্বচ্ছলতার কারণে। একজন সাথী ভাই মেশিন বসানো, পানি সরবরাহ ওয়েল্ডিং ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকার কাজ করেন। তিনি জানালেন, গরমের সময় তার মাসিক আয় প্রায় এক কোটি রিয়েল এবং শীতের সময়ে ঘাট/আশি লক্ষ রিয়েল। এখানে পেট্রোল ষাট রিয়েল লিটার যা আমাদের দেশের ২০/- (বিশ) টাকার মতো এবং কেরোসিন ত্রিশ/পঁয়ত্রিশ রিয়েল লিটার যা আমাদের দেশের হিসাবে বার টাকা মতো। পাঁচ/দশ মিনিটের জন্য এরা গাড়ীর স্টার্ট বন্ধ করে না। প্রচুর টিনজাত সবজী ও মাছের ক্যান বিক্রী হয়। ফলে রান্নার সময় ক্যান কিনে সহজে রান্না করা যায়। প্রচুর গ্যাস আছে জন্য রান্নার ঝামেলাও কম। চায়ের দোকানের মতো যত্রতত্র ছোট ছোট দোকানেই এখানে গ্যাস বিক্রি হয়। ছোট ছোট গ্যাস চুল্লি গুলো এখানে এনে বড় সিলিন্ডার থেকে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্যাস ভরে বিক্রি করা হয়। আর দামও খুবই সস্তা। এখানে ছোট গ্যাস সিলিন্ডারের গ্যাসের দাম পড়ে ১০/১২ রিয়েল যা আমাদের টাকায় ৩/৪ টাকা। ইয়েমেনের অর্থনীতি এখন নেশার বাজারের মতো জমজমাট।
ইয়েমেনিদের সততার একটা গল্পও এখন না বললে অন্যায় হবে। আমাদের এ সপ্তাহের রোখ পড়ল শহরের অন্য পাশের তিন মসজিদে। প্রথমে আল নেজ্জারী, তারপর আল দোগাইস ও শেষের তিন দিন বীরে লাইস মসজিদে। আল নেজ্জারীতে অবস্থানের দ্বিতীয় দিনে যে চমক দেখলাম তা এখনও বিশ্বাস করা কঠিন।
