বা ঐ রকম মেশিনে পানি তোলা হয়। প্রায় সারাদিনই এই সব মেশিন চালু থাকে এবং জমির ধার দিয়ে কাটা ছোট অগভীর খাল দিয়ে জমি গুলোতে পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। কোন জমিতে কবে পানি দেওয়া হয়েছে এবং আবার কবে পানি দিতে হবে তারও হিসাব রাখতে হয়। আমাদের দেশে যেমন পুরা মাঠে একসঙ্গে ধান চাষ করা হয় এখানেও তেমনি অনেক বড় এলাকা জুরে কাদের চাষ করা হয়। প্রায় অধিকাংশ কাদ চাষীরাই চনাঢ্য এবং সমাজের উপর তলার মানুষ। কারণ এই চাষে টাকাও যেমন আসে প্রচুর তেমনি খরচও হয় অচিন্তনীয়। প্রত্যেক দিন জমির পরিচর্যার লোককে জমির ফসল দেখাশোনা করতে হয়। নিয়মিত পোকার হাত থেকে রক্ষা করতে বিষ মেশানো পানি স্প্রে করতে হয়। চব্বিশ ঘন্টা পাহাড়া দিতে হয়। বিশেষতঃ রাত্রে তো এ. কে-৪৭হাতে প্রায় প্রত্যেক জমিতেই পাহাড়াদার থাকে। এছাড়া লোহার খুঁটি দিয়ে এবং তার বা নেট দিয়ে জমির অবৈধ প্রবেশ বন্ধ রাখতে হয়। পাখি যেন জমিতে না বসে সে জন্য জমির উপরে টানা দিয়ে সুতা বা তার টাঙ্গিয়ে রাখা হয়। পাকা করে পাথরের তৈরি ওয়াচ টাওয়ার ছাড়াও ক্ষেতের বিভিন্ন স্থানে কালো কাপড় দিয়ে অস্থায়ীভাবে পাহাড়াদারদের পাহাড়াপোষ্ট বানানো হয়। মোট কথা খুব বড় লোকের নয়নের পুত্তলী আদরী কন্যার মতো এর অবস্থান। এর পরও আছে গাছ বেশি বড় হয়ে গেলে তিন/চার ইঞ্চি গোড়া রেখে গাছ কেটে ফেলতে হয়। সেখান থেকে নূতন করে কুশি বের হয়। যত বেশি কেটে ঝাড় বানানো হয় ততবেশী কাদের ফলন পাওয়া যায়। বড় গাছের কাদ এর চাহিদা কম এবং দামে সস্তা। যেহেতু খরচ খুব বেশি, তাই উপযুক্ত চাষের জমি গুলো মালিকের কাছে থেকে স্বল্প মেয়াদী লীজ নিয়ে কাদ চাষীরা কাজ করে থাকে। কাদ খাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় বিকেল বেলা। প্রায় সব খানেই এবং সব বয়সের ও সামর্থের মানুষ বিকেল হলেই কোন বড় লোকের বৈঠক খানায় অথবা বারান্দায় অথবা দোকানের মেঝেতে কাদের প্যাকেট হাতে বসে যায়, সঙ্গে বোতলে পানি/ড্রিংকস ও বড় লোকের বৈঠক খানায় ফারসী হোঁকায় তামাক চলতে থাকে। কোন কোন বড় কাদের আসরে বিক্রেতাও তার ব্যবসা চালায় এবং নিজেও কাদ খাওয়ায় অংশ নেয়। এ ছাড়া সারা দিনই পথে ঘাটে গালে টেনিস বলের মতো কাদের বল নিয়ে লোকজন চলাফেরা করে। দৃষ্টিকটু হলেও লোকজন “নেসেসারি ইভিল” এর উপদ্রব মেনে নিয়েছে সম্ভবতঃ অনোন্যপায় হয়ে। কাদ রাজধানীতে কাদের প্যাকিংও রাজকীয়। মসজিদের সামনের জমিতে চৌদ্দ জন শ্রমিক কাদ তুলছিল। একটা গাড়ীতে ছাল তুলা চার ইঞ্চির মতো গোল সাইজের এক গাড়ী কলার গাছ। প্রায় আগাগোড়া লম্বা করে কাটা কলাগাছের ভেতরে প্রথমে পুরু করে টিস্যু পেপার বিছানো হয়। তার উপরে খুব যত্নের সঙ্গে ফাঁকা ফাঁকা করে তিন মুঠো কাদ রাখা হয়। তারপর উপরে আবারও পুরু করে টিস্যু পেপার বিছিয়ে
