‘কাদ’-এর রাজধানীতে দুইদিন
আমাদের এ সপ্তাহের জন্য যে তিনটি মসজিদে রোখ স্থির করা হল তা হল, মসজিদ আল নেজ্জারী, মসজিদ আল কোবাইস এবং মসজিদে বীর এ লাহিস। নেজ্জারীর সাথীরা গাড়ী নিয়ে আমাদের এস্তেকবাল করতে এসেছিলেন। মসজিদের পাশে গাড়ী এসে থামতেই নেমে আমরা প্রথমেই দোয়া করলাম। তারপর মাল সামানা নামানো ও মসজিদে যাওয়া। কিন্তু তার আগেই যেটা দৃষ্টি কাড়ল তা হল মসিজদের পাশেই মোটা তারের নেট দিয়ে বড় বড় ঘন সবুজ কাদের ক্ষেতগুলো ঘেরা এবং ক্ষেতের একদিকে চার/পাঁচটা মোটর গাড়ী এবং বেশ কিছু মানুষ দাঁড়িয়ে আছে।
এখানে কাদ সম্পর্কে কিছু লেখা যেতে পারে। কাদ ইয়েমেনের অন্যতম প্রধান অর্থকরি ফসল। শোনা যায় কোন এক আবিসিনীয় তার নিজের নেশার খোরাক জোগাতে দেশ থেকে কাদের চারা নিয়ে এসে এখানে কাদ চাষের গোড়াপত্তন করে। তবে তা কতদিন আগে বা কোন এলাকায় শুরু হয়েছিল তা কেউ বলতে পারলেন না। দেখতে কিছুটা চা গাছের মতো এ গাছগুলো খুব আদর যত্ন পছন্দ করে। পাহাড়ের অনেক উঁচুতে বেলে-দোআঁশ মাটি এর জন্য উপযুক্ত। প্রচুর পানি দিতে হয় এবং গোড়ার মাটি ঝরঝরে করে বাতাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং আগাছা মুক্ত রাখতে হয়। গাছ প্রায় এক ফুট উচ্চতা পেলেই কাদ তোলার উপযুক্ত হয়। চা গাছের মতো এর ও ডগার কচি পাতা তুলতে হয়। তবে চা বাগানের বিপরীতে এখানে মেয়ে কর্মির বদলে পুরুষ কর্মি কাজ করে এবং ডগা গুলো পাঁচ/সাত ইঞ্চি করে কাটা হয়। এর জন্য একরকম কাস্তেও আছে। তবে সবাই মূলত হাত দিয়েই দ্রুত কচি ডগা কেটে মুঠো করে। এক মুঠো হলেই তা পলিথিনের ছোট ছোট প্যাকেটে বিশেষ কায়দায় প্যাক করা হয়। প্রতি প্যাকেট একশত ইয়েমেনি রিয়েল থেকে শুরু করে গুন ও মানের ভিত্তিতে প্রায় দুই হাজার রিয়েলে বিক্রী হয়। যে ডগার পাতা যত বেশি নরম এবং পাতার রং যতবেশী হালকা খয়েরী হয় সেই পাতা তত ভাল বলে গণ্য হয়। সবুজ রং এর পাতার দাম কম এবং যেসব ডগার একদম কুশি পাতাগুলো ছাড়া অন্য পাতা খেতে পারা যায় না সে সব প্যাকেট কমদামে বিক্রী হয়।
কাদের ক্ষেতে পানি সেচ অনেকটা ইরি ক্ষেতের মতো। ছোট ছোট ব্লকে পুরা জমিকে ভাগ করে পানি জমা রাখার জন্য ছোট ছোট আইল দিয়ে ব্লক গুলোকে পৃথক করা হয়। যেহেতু বেলে দোআঁশ মাটি, সেজন্য মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা খুব কম। তাই প্রায় প্রতি সপ্তাহেই পানি সেচ দিয়ে প্রচুর পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে হয়। দুইশত পঞ্চাশ/তিনশত মিটার নিচে থেকে চার ইঞ্চি শ্যালো
