ত্রুটি থেকে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়; পাঠক এ ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আমরা তা সংশোধন করার সর্বাত্মক চেষ্টা করব।
সবাইকে আন্তরিক মোবারকবাদ।
নূর মোহাম্মাদ আবু তাহের
বাংলাবাজার, ঢাকা
১২ জুন, ২০২৩
প্রাক-কথন
বিশ শতকের উত্তরার্ধকালজুড়ে বিশ্বের একটি বিপুল অংশের জনগোষ্ঠীকে প্রায় মোহগ্রস্ত করে রেখেছিল যে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সাংস্কৃতিক মতবাদ, তার সাধারণ নাম ‘সমাজতন্ত্র’। তবে এটি কমিউনিজম ও সোশ্যালিজম নামেও পরিচিত। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী এটি ‘বামপন্থা’ নামে পরিচিতি পায়। এর কিছুটা ধাক্কা লাগে ভারতে এবং সেইসঙ্গে বাংলাদেশে। এই মতবাদের রূপ-স্বরূপ যেমন বিপুল বিতর্ক তৈরি করে, তেমনই এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে মতানৈক্যের শেষ ছিল না। এক ধারণা করতে হয় যে, সমাজতন্ত্র তথা বামপন্থা তার যৌবনের সময়ে লোভনীয়ভাবে বিপুলসংখ্যক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এমনকি এই মতবাদের ভিত্তিতে কিছুসংখ্যক রাষ্ট্র ও পরিচালিত হয়। বাংলা অঞ্চলে এই মতবাদের অনুসারীদের একটি অংশ যে গণতান্ত্রিক বা শাস্ত্রপূর্ণ উপায়ে কর্মতৎপরতা চালাতে আগ্রহী ছিল সেটা সত্য, তবে মূলধারার বামপন্থিরা প্রধানত সশস্ত্র পথেই তাদের মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট ছিল।
ইতিহাসের তথ্য পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এ দেশে সশস্ত্র পথ ও পদ্ধতির প্রথম প্রয়োগ করে স্বদেশীরা এবং এরই ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক মতবাদ প্রতিষ্ঠার কৌশল প্রবর্তন করে বামপন্থিরা। এই গ্রন্থের আলোচ্য বিষয়বস্তু এই মতবাদ বা তত্ত্বের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে, আর এই প্রক্রিয়া হলো ‘সশস্ত্র’ পন্থা। অর্থাৎ, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে অস্ত্রের জোরে পথ করে দেওয়া। ফলে চলতি সময়ে যাকে সন্ত্রাসী, চরমপন্থী, উগ্রবাদী, সহিংসতাবাদী প্রভৃতি নেতিবাচক শব্দ দিয়ে উল্লেখ করা হয়ে থাকে—এসবই এই সশস্ত্রপন্থার শামিল।
বাংলা-ভারতে ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থা উৎখাতের জন্য একটি অংশ স্বদেশী নামে যে সন্ত্রাস ও সশস্ত্র পথ অবলম্বন করে, তারই ধারাবাহিকতায় পদ্ধতি-প্রক্রিয়াসমূহ ধারণ করে বামপন্থার বাস্তবায়নেও অগ্রসর হতে দেখা যায় এর নীতি-নির্ধারক ও কর্মীদের। ফলে রাইফেল-বন্দুক, পিস্তল-রিভলভার, গুলি-গোলা, বোমা-চাকু প্রভৃতি হয়ে ওঠে অসংখ্য মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের ভাগ্যবিধায়ক।
ব্রিটিশ আমলে যে সমস্ত কর্মপ্রক্রিয়া স্বরাজপদ্ধতির মাধ্যমে পরিচালিত হতো, সেটি বাংলাদেশে বামপদ্ধিতির একটি অঙ্গের প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে।
পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সমাজতন্ত্র বা কমিউনিজম প্রতিষ্ঠায় অর্থনৈতিক ও উৎপাদন দল বা গোষ্ঠীগতভাবে বিন্যস্ত থাকলেও এর মূল সূত্র ও চেতনা একই—একটি শ্রেণিহীন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা; যদিও এর সম্ভাব্যতা নিয়ে হতাশাও বিদ্যমান। বহু গোষ্ঠী ও গোত্রে বিন্যস্ত নেতা-কর্মী-সমর্থকরা এর আদর্শিক ব্যাখ্যা-বিশেষের
