নাই। বাহির হইতে যেটুকু সামান্য দেখিয়াছি তাহাই নিবেদন করিবার চেষ্টা করিব। সহৃদয় পাঠককে সাবধান করিয়া দিতেছি, আলোচনা অতি অসম্পূর্ণ ও দোষত্রুটিতে কণ্টকিত থাকিবে। এবং ইতোমধ্যে অন্য কেহ যদি আলোচনাটি আরম্ভ করেন তবে অধম তাঁহাকে সশ্রদ্ধ নমস্কার নিবেদন করিয়া পরমানন্দে শ্রোতার আসনে গিয়া বসিবে।
.
০৩.
পূর্বের প্রবন্ধে সামান্য আভাস দিয়াছিলাম যে, ভারতবর্ষীয় লোকসঙ্গীতের মূল্য ও তাৎপর্য সম্যক হৃদয়ঙ্গম করিতে হইলে বেদান্ত, যোগ,
ভক্তিবাদ ও সুফিতত্ত্ব সম্বন্ধে কিঞ্চিৎ জ্ঞান থাকার প্রয়োজন।
সুফিবাদ (ভক্তি, যোগ ও mysticism-এর সমন্বয়) ভারতবর্ষে আসে পারস্য হইতে ও এদেশের দর্শন ও ভক্তিরস ইহাকে পরিপুষ্ট করে। কিন্তু এ সম্বন্ধে আলোচনা করিবার পূর্বে আরেকটি বিষয়ের প্রতি পাঠকের দৃষ্টি এক মুহূর্তের জন্য আকর্ষণ করিব।
১৯১৮-র যুদ্ধে যখন ফ্রান্স ও জর্মনি ক্লান্ত, তখন পণ্ডিত-মহলে দ্বিতীয় যুদ্ধ আরম্ভ হইল। সে যুদ্ধ সুফিবাদ লইয়া। একদিকে ফ্রান্সের বিখ্যাত পণ্ডিত মাসিনা, অন্যদিকে জর্মনির তদপেক্ষা বিখ্যাত পণ্ডিত গড়ৎসিহার ও তস্য শিষ্য হতেন। মাসিনো পক্ষ বলিলেন, ইরানের সুফিবাদের উপর ভারতবর্ষীয় কোনও প্রভাব পড়ে নাই, যেটুকু পড়িয়াছে তাহা সুফিবাদ ভারতবর্ষে আসিবার পর। অন্যপক্ষ নানা প্রকার যুক্তিতর্ক দলিলদস্তাবেজ দ্বারা সপ্রমাণ করিবার চেষ্টা করিলেন যে, ভারতবর্ষে আগমনের পূর্বেই অর্থাৎ ইরানের বর্ধিষ্ণু সুফিবাদ বেদান্ত ও যোগরস পুনঃপুন পান করিয়াছে।
তর্কটি পাত্ৰাধার তৈলজাতীয় আপেক্ষিক, নিরর্থক নহে। সুফিবাদ অনুসন্ধান করিলে যদি সপ্রমাণ হয় যে, ভারতবর্ষীয় দর্শনের লাঞ্ছন তাহার উপর রহিয়াছে তাহা হইলে সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি গম্ভীর ঐতিহাসিক তত্ত্ব সপ্রমাণ হয়, সেটি এই যে, ভারতীয় ধর্ম ও দর্শন এককালে ইরান পর্যন্ত ব্যাপকভাবে বিস্তৃত ছিল।
এ সন্দেহ বহু পূর্বেই কোনও কোনও পণ্ডিত করিয়াছেন। হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্ম দর্শন যে ইরান নহে, সিরিয়া, প্যালেস্টাইন পর্যন্ত পরিব্যাপ্ত হইয়াছিল, সে সন্দেহ প্রথম জাগে পণ্ডিতমণ্ডলীর মনে, যখন তাঁহারা বাইবেলের প্রাচীন ও নবীন মালিকের (Old and New Testaments) তুলনাত্মক আলোচনা আরম্ভ করেন। ইহুদিদের প্রাচীন মাঙ্গলিকের যে হিংস্র নীতি ক্ষণে ক্ষণে আমাদিগকে পীড়া দেয়, সেইরূপ খ্রিস্টের ক্ষমা ও দয়ার নীতি নবীন মাঙ্গলিকে আমাদিগকে পুনঃপুন আনন্দ ও সাহস দেয় (একদিকে An eye for an eye, and a tooth for a tooth 3 DALINCA Love the neighbour, offer the left cheek ইত্যাদি তুলনা করুন)। পণ্ডিতমণ্ডলী
জিজ্ঞাসা করিলেন খ্রিস্ট কী করিয়া শান্তি ও মৈত্রীর বাণী এ হিংস্র পরিবেষ্টনীর মধ্যে হৃদয়ঙ্গম করিতে সমর্থ হইলেন ও প্রচার করিবার দুঃসাহস সঞ্চয় করিলেন? তবে কি কোনও বৌদ্ধশ্রমণের সঙ্গে তাহার যোগাযোগ হইয়াছিল? বিশেষত তাহার যৌবন কোথায় কী প্রকারে যাপিত হইয়াছিল সে সম্বন্ধে বাইবেল যখন নীরব।
এ প্রশ্নের সমাধান অদ্যাপি
