জেলখানার দিনগুলি

« <
/ 81
> »

খাসা ব্যবস্থা আর হয় না। শীতকালে ঘর স্যাঁতস্যাতে থাকার কারণে শীত অত্যন্ত বেশী অনুভূত হয়। শীতের প্রচণ্ডতা, গ্রীষ্মের প্রখরতা আর আলো বাতাসের স্বল্পতাই দশ সেলের বৈশিষ্ট্য”। চারপার্শ্বে আটফুট উঁচু বহিঃ প্রাচীর। প্রতিটি ভবনকেই এই রকম আলাদা বাউণ্ডারি ওয়াল দিয়ে ঘিরে রেখে আন্তঃভবন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে নিরাপত্তার কারণে। ভবনের সামনে মনোরম ফুলের বাগান। বাগানের চারদিকে হাঁটা-চলার বিস্তর জায়গা। পশ্চিমের দেয়াল ঘেঁষে দশটি বাথরুম। প্রতিটি কক্ষে একটি করে বাথরুম থাকলেও দিনের বেলায় সাধারণতঃ বাইরের টয়লেট ব্যবহারের রেওয়াজ চালু আছে। গোসলের জন্য একটি পানির হাউজ। তবে পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে জলসংকোচন নীতি বড়ই পীড়াদায়ক। সকাল-সন্ধ্যা দুই বেলা পানি সাপ্লাই। কিন্তু জলপতনের ধীরগতি অসম্ভব বিরক্তির উদ্রেক করে। বাউণ্ডারি ওয়াল ঘেঁষে সারি সারি নারিকেল গাছ। ফলে ফলে সুশোভিত। কিন্তু ডাব পাড়লেই putup, কেইস টেবিলে নালিশ এবং পানিশমেন্ট সেলে স্থানান্তর। হাউজের পাড়ে এক ধরনের কপি জাতীয় গাছের চাষ করা হয়েছে। শুনেছি, জেলার সাহেব বিদেশ থেকে চারা এনে চাষ করিয়েছেন। সরকারী জায়গা এবং বিনা পয়সায় কাজের লোক পাওয়া গেলে যা হয়, এখানে তাই হয়েছে। হাতের নাগালে অথচ ধরা-ছোঁয়ার কত বাইরে। তবে ফাঁক-ফোঁকরে যে দুইএকটি কপি একেবারেই বেহাত হয় না তা নয়। সেলগুলোর নামকরণ করা হয়েছে ভবনের সেল বা কক্ষের সংখ্যানুসারে। দশ নম্বর সেল মানেই হলো দশ কক্ষ বিশিষ্ট ভবন। নাইন্টি সেল মানে ভবনটিতে নব্বইটি কক্ষ আছে। তবে জেলখানার অধিকাংশ আসামী থাকে হলভবনগুলোতে। জেলের ভাষায় এগুলোকে বলা হয় ‘খাতা’। সেলগুলোর প্রতিটি কক্ষে কতজন বন্দী রাখা হবে তার কোন বিধান নেই। সাধারণত কক্ষপ্রতি পাঁচ-ছয়জন হতে আরম্ভ করে বারো-তেরোজন পর্যন্ত বন্দী রাখা হয়। তবে কক্ষপ্রতি বন্দীসংখ্যা হতে হবে বেজোড় সংখ্যায়। কেন, তার কোন সদুত্তর খুঁজে পাইনি। হুবহু ইউনিভার্সিটির ফোরসীটেড রুমের প্রতি সীটে ডাব্লিং থাকার মতো। তফাৎ এই, হলে খাট, চেয়ার-টেবিল ইত্যাদি আছে। জেলখানায় শুতে হয় মেঝেতে। এর মধ্যে সান্ত্বনার কথা এই যে, কোন একদল লোক নয়, শ্রেণীবিভেদ নির্বিশেষে ফকির-বাদশাহ্ সকলের জন্যই ঢালাই বিছানা। তবে রাজনৈতিক গুরুত্ব ও নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেককে একা এক কক্ষেও রাখার দৃষ্টান্ত আছে। জাগপা সভাপতি জনাব সফিউল আলম প্রধানকে একা এক কক্ষে থাকতে দেখেছি।

জেলখানার সেল এলাকায় দৈনিক কার্যপদ্ধতি মোটামুটি এইরকম: সকাল ছয়টায় বিছানা ছেড়ে জেগে উঠা।

« <
/ 81
> »