আদ-দু‘আ

« <
/ 54
> »

বাগানের ভেতর দিয়ে হাঁটছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে নবীজি ﷺ আমাকে ডাক দিয়ে বললেন, ‘হে আবু হুরায়রা! তুমি কি জানো বান্দার ওপর আল্লাহর হক বা অধিকার কী?’ আমি বিনীতভাবে আরজ করলাম, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন।’ তিনি বললেন, ‘বান্দার ওপর আল্লাহর হক হলো—তারা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরিক করবে না।’

এরপর তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আবু হুরায়রা! বান্দা যখন এই হক আদায় করবে, তখন আল্লাহর ওপর বান্দার হক কী, তা কি তুমি জানো?’ আমি আবারও বললাম, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন।’ রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, ‘বান্দা যখন শিরকমুক্ত ইবাদত করবে, তখন আল্লাহর ওপর তাদের হক হলো—তিনি তাদের আর আজাব দেবেন না’।”

১৫. শেষ সময়ে কালিমার মহিমা

হুযাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, “কাপড়ের নকশা বা রঙ যেমন সময়ের ব্যবধানে ম্লান হয়ে মুছে যায়, ইসলামও একদিন সেভাবে মুছে যাবে। অবস্থা এমন হবে যে, মানুষ জানবে না নামাজ কী, রোজা কী কিংবা হজের নিয়ম-কানুন কী। সমাজে কেবল কিছু বৃদ্ধ-বৃদ্ধা অবশিষ্ট থাকবে যারা বলবে— ‘আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের এই কথা বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাই আমরাও তা-ই বলছি।’

শুনে (তাবেঈ) সিলাহ প্রশ্ন করলেন, ‘হে হুযাইফা! যারা নামাজ, রোজা বা হজের কিছুই জানে না, তাদের এই কালিমায় কী লাভ হবে?’ হুযাইফা (রা.) উত্তর দিলেন, ‘হে সিলাহ! এই কালিমাই তো তাদের জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেবে’।”

১৬. দোয়ার সময় হাত তোলার পদ্ধতি

ইকরিমা (রাহ.) থেকে বর্ণিত (রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর উদ্ধৃতিতে): তিনি বলেছেন, “আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি ও কাকুতি-মিনতি করার সময় হাতের তালু মাটির দিকে (অর্থাৎ পিঠ উপরের দিকে) করে দোয়া করতে হয়। কোনো কিছু চাওয়ার সময় দুই হাতের তালু বুক সমান প্রসারিত করতে হয়। আর মনের ঐকান্তিকতা ও ইখলাস প্রকাশের সময় একটি আঙুল দিয়ে ইশারা করে ডাকতে হয়।”

১৭. পূর্ণ আত্মনিবেদন ও নিষ্ঠা

আবু সালেহ (রাহ.) থেকে বর্ণিত: আল্লাহ তাআলার বাণী— “আর তাঁর প্রতি একনিষ্ঠভাবে নিবিষ্ট হও” (সূরা মুজ্জাম্মিল: ৮)—এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “এর অর্থ হলো, একাগ্রচিত্তে ও নিখুঁতভাবে কেবল তাঁর দিকেই নিবেদিত হওয়া।”

১৮. তাওহীদের ইশারা

আবু সালেহ (রাহ.) থেকে বর্ণিত: একদা সাহাবী

« <
/ 54
> »