আলী, খুব পুরাতন সাথী। দুই বার বাংলাদেশে, দুই বার ভারতে ও দুই বার পাকিস্তানে সময় লাগিয়েছেন। তাড়াতাড়ি উনাদের নাস্তার ব্যবস্থা করে আমরা তালিমে ফিরে গেলাম আর আমির সাহেব মেহমানদের নিয়ে কথা বলতে লাগলেন। কিন্তু বেশিক্ষণ না। অল্প কিছুক্ষণ পরেই তিনি উঠে এলেন আমাদের কাছে- জরুরী আলোচনা করতে।
ইংরেজীতে ছোট বেলায় পড়েছিলাম, Man proposes but god disposes অর্থাৎ মানুষ ভাবে এক রকম আর আল্লাহ করেন অন্যরকম। এখানেও সেই একই ব্যাপার। ভাই আলী হাসান নাজ্জারীর কাছে তারা শুনেছেন, একটা বাংলাদেশী জামাত এখন পাশের পাহাড় মোরখামে আছে। খুব শীঘ্রই তারা হুদাইদা ফিরে যাবে। শুনে সঙ্গে সঙ্গেই আব্দুল্লাহ আলী ভাই ছুটেছেন হুদাইদাতে। তাদের ঐ পাহাড়ী এলাকায় এ পর্যন্ত কোন বিদেশী জামাতের রোখ হয়নি, সুতরাং এই সুযোগে এই জামাতকেই তারা বরকত হিসাবে চান। এদিকে মুয়াররাস এর সাথীরা আগেই মার্কাজে মোবাইল করে ছিলেন, কিন্তু মরু এলাকায় এর আগেই আমাদের কুড়ি দিন মেহনত হয়ে গেছে এবং ব্যক্তিগত ভাবে ভাই আব্দুল্লাহ আলী খুব পুরাতন ও কর্মী সাথী। নিজে হুদাইদাতে গিয়ে হাজির হয়েছেন। ফলে তার প্রচেষ্টাই সফল হল। আমাদের তখনও সত্তর দিন সময় বাঁকী আছে। আলী ভাইরা পুরা সময়ের জন্যই আমাদের জামাতকে তাদের এলাকায় চাইলেন এবং শেষ পর্যন্ত মুরুব্বীরা চল্লিশ দিনের জন্য আমাদের রোখকে মুয়াররাস এর পরিবর্তে যে সব পাহাড়ী এলাকায় এখনও কোন বিদেশী জামাতের পা পড়েনি তেমনি এক পাহাড়ী এলাকা নাহবীদ এর জন্য রোখ নির্দ্ধারণ করে দিয়েছেন। আলী ভাই আমাদের এখন তাদের এলাকায় নিয়ে যেতে গাড়ীসহ এসে হাজির। আমরা হুদাইদাতে ফোন করলাম। মার্কাজের ফয়সালা ভাই সালেহ মকবীল বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করলেন। ঐ এলাকায় কোনদিন কোন বিদেশী জামাত যায়নি। আমাদের মেহনত যদি আল্লাহ কবুল করেন সেই আশায় আমাদের ওখানে যেতে তিনিও বিশেষভাবে অনুরোধ করলেন। জামহুরি ভাই ছিলেন না, অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি এসে হাজির। বিষয়টি শুনে প্রথমে হতবুদ্ধি হয়ে পড়লেন। জামহুরি ভাইরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সন্ধ্যায় মুয়াররাস এর সব মুরুব্বী এখানে এসে মাশোয়ারা করে পরবর্তী মসজিদ সমূহ ঠিক করবেন। এছাড়া এলাকার সব বাড়ীতেই খবর দেওয়া হয়েছে বাদ মাগরিব বয়ানে উপস্থিত হতে। সুতরাং একটা নাজুক অবস্থা তৈরি হল। সবাই আবার মাশোয়ারায় বসলেন। সিদ্ধান্ত নেওয়া হল যে, আলী ভাইরা এশার নামায পর্যন্ত দেরী করবেন এবং জামাত শেষে আমরা উনাদের সঙ্গে নাহবীদ এ যাব। জামহুরি ভাইরা শেষ চেষ্টা হিসাবে হুদাইদাতেও যোগাযোগ করলেন কিন্তু লাভ হলনা। ফলে আবার মরু কন্যার বদলে গীরি রাজ্যে যাওয়াই স্থির হল। নামায শেষে রাত্রের খাবার
