আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর পৃথিবীতে অবতরণ স্থল
জান্নাতের সেই স্নিগ্ধ শীতলতা আর নূরাণী পরিবেশ পেছনে ফেলে এক বিশাল শূন্যতার মধ্য দিয়ে আদম ও হাওয়া (আ.) পৃথিবীর বুকে অবতরণ করলেন। জান্নাত থেকে বিদায় নেওয়ার সময় আদম (আ.)-এর হৃদয়ে যে হাহাকার ছিল, তা পৃথিবীর কোনো শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তিনি যখন পৃথিবীর মাটিতে প্রথম পা রাখলেন, তখন চারদিকের তপ্ত রোদ্র আর রুক্ষ ধূলিকণা তাঁকে এক কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি করল।
বর্ণনা অনুযায়ী, আদম (আ.) এবং হাওয়া (আ.)-কে পৃথিবীর দুটি ভিন্ন প্রান্তে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এটি ছিল বিরহের ওপর আরেক বিরহ।
অধিকাংশ ইতিহাসবিদ ও মুফাসসিরগণের মতে, আদম (আ.) অবতরণ করেছিলেন বর্তমান শ্রীলঙ্কার ‘সরনদীপ’ (Serendib) বা সিংহল দ্বীপের এক সুউচ্চ পাহাড়ে। পাহাড়টি আজও ‘আদম’স পিক’ নামে পরিচিত।
অন্যদিকে, হাওয়া (আ.) অবতরণ করেছিলেন আরবের জেদ্দায় (আরবীতে ‘জাদ্দাহ’ মানে দাদী)।
তাঁদের সাথে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল অভিশপ্ত ইবলীসকেও। সে নেমেছিল ইরাকের বসরার নিকটবর্তী কোনো এক স্থানে। সাপের অবতরণ স্থল হিসেবে ধরা হয় ইসফাহানকে।
আদম (আ.) যখন পৃথিবীতে পা রাখলেন, তিনি অনুভব করলেন এক চরম নিঃসঙ্গতা। জান্নাতে তিনি নূরের পোশাক পরতেন, ক্ষুধা পেলে সুস্বাদু ফল পেতেন। কিন্তু পৃথিবীতে তখন চারদিকে কেবল নির্জন বনভূমি আর বন্য পরিবেশ। তিনি জান্নাতের সেই উচ্চতা থেকে নামার পর পৃথিবীর বাতাসের ভারী ভাব অনুভব করলেন।
হাদীস ও ইতিহাসের কিতাবগুলোতে এসেছে, আদম (আ.) তাঁর বিচ্ছেদের বেদনায় এবং আল্লাহর ভয়ে এত বেশি কেঁদেছিলেন যে, তাঁর চোখের অশ্রুতে ভূমিতে ঘাস ও উদ্ভিদ জন্মেছিল। তিনি কেবল আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন, যেন তিনি আবার তাঁর জীবনসঙ্গিনীর দেখা পান এবং জান্নাতের সেই সুবাস অনুভব করতে পারেন।
