ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

লেখকের কথা

তবলীগের সফর দীনের মেহনতের সফর। এখানে সময়কে যত বেশি দ্বীনের কাজে লাগানো যায় ততই মঙ্গল। তাহলে এই সফরকে নিয়ে কেন আমার এই রোজনামচা এ প্রশ্ন অনেকের মনেই জাগবে। এ বিষয়ে পাঠকের খেদমতে অধমের বিনীত কৈফিয়ত পেশ করা জরুরী মনে করছি।

সফর করতে আমার ভাল লাগে। সফরে আল্লাহর সৃষ্টিবৈদ্ধিত্র ও মানুষের জীবন যাপন প্রণালীর বিভিন্নতা সুন্দরভাবে উপলব্ধি করা যায়। দেশ বা বিদেশের সফরে টুকিটাকি নানা বর্ণনা ছাড়াও পুরা সফরের কাহিনী বাড়ীতে এসে ছেলেমেয়েদের বলা আমার পুরনো অভ্যাস। নতুন অবস্থায় এসব ঘটনা কিছু মনে থাকে আর কিছু বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যায়। কিন্তু ডাইরীতে আগোছালো হলেও লিখে রাখলে তা থেকে যায় অনেকদিন। তাই এবারের সফরেও অভ্যাস বশত একটা ডাইরী সঙ্গেই ছিল।

আরবী শিক্ষিত মানুষ আমি নই। আমার পক্ষে ইয়েমেনের আঞ্চলিক আরবীতে স্থানীয় সাথী ভাইদের সঙ্গে কথা বলা দোভাষী ছাড়া সম্ভব ছিল না। ফলে মাঝে মধ্যে অবসর সময় হাতে পেতাম এবং পূর্ব অভ্যাসের কারণে ডাইরী খুলে সময়কে ধরে রাখতাম। হঠাৎ একদিন আমার এক সফরসঙ্গী জানতে চাইলেন আমি এসব কি লিখি। এককথায় জবাব দিলাম কিন্তু “ভবি ভুলবার নয়”। বললেন, পড়ুন আমি শুনব। তিনি শুধু শুনলেনই না, সব সাথীকে ডেকে এনে শুনালেন এবং প্রত্যেক লেখার পরপরই তাদেরকে সেটা পড়ে শুনানো বাধ্যতামূলক করিয়ে ছাড়লেন। এ ভাবেই এই লেখা আমার ‘একান্ত ব্যক্তিগত’ পর্যায় অতিক্রম করে আমাদের সেই জামাতের ‘সমষ্টিগত’ বিষয়ের রূপ নিল। আমার সাথীরা আমাকে শেষদিন পর্যন্ত উৎসাহ দিয়ে, আন্তরিকতা দিয়ে সামনে টেনে নিয়ে না গেলে আজকের এই বইটি আলোর মুখ দেখত কিনা সন্দেহ।

দেশে ফিরে রুটিন মাফিক ঘটনাগুলো ছেলেমেয়েদের শুনালাম। ওরা আমার কাছে লেখাটি ছাপানোর আবদার করতে থাকল। তাদের সাথে মাওলানা মাসউদ (বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় দুইটি বই ‘তারবিয়াতুস সালিক ও তাবেঈদের ঈমানদীপ্ত জীবন’ এর অনুবাদক) আরো এক ডিগ্রী বাড়িয়ে লেখাটি কম্পিউটার কম্পোজ করিয়ে ঢাকায় নিয়ে গেলেন এবং আল্লাহর অশেষ মেহেরবাণীতে ‘আলকাউসার’ এর মতো বিখ্যাত দ্বীনি পত্রিকার কয়েক সংখ্যায় তা ছাপাও হল। এবার চেনা অচেনা অনেকেই বই আকারে লেখাটি প্রকাশ করতে অনুরোধ জানালেন। ফলে রাহনুমা প্রকাশনীর তরফ থেকে আমার জন্য এই আশাতীত সৌভাগ্য আল্লাহ নসীব করলেন। আলহামদুলিল্লাহ।

ইয়েমেন বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরের দেশ। দেশ ও অঞ্চল ভেদে মানুষের জীবন যাপনে ও আচার আচরণে কত পার্থক্য, দ্বীনের প্রতি তাদের প্রচন্ড আগ্রহ আর আমাদের চরম উদাসিনতার এই ছবি স্পষ্টভাবে দেখতে পারলে তা আমাদের বোধ ও চেতনার দরজায় বলিষ্ঠভাবে ঘা দেবে বলে আমার মনে হয়। তাছাড়া যারা মনে করেন ‘চৌদ্দশ বছরের পুরাতন ইসলাম মানা মোটেই সহজ নয়’ তারা একটু মন খুলে এদিকে তাকালেই বুঝতে পারবেন তাদের ধারণা কত কাঁচা এবং একপেশে। মন-মানসিকতার রঙ্গীন চশমার ভেতর দিয়ে না তাকিয়ে সাদা চোখে পৃথিবীকে ‘যা যেমন তা তেমন’ ভাবে উপলব্ধি করার ভেতর দেখার প্রকৃত সার্থকতা।

আপনি, যিনি এই লেখা (‘ইয়েমেনে একশত বিশদিন’) পড়ছেন, যদি এটা আপনার ভাল লাগে তাহলে আমার এই লেখা সার্থক হয়েছে বলে মনে করব। আর যদি ভাল না লাগে তাহলে সেটা আমারই ব্যর্থতা, সেজন্য অন্য কেউ নয় আমি নিজেই দায়ী। পরিশেষে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা তিনি যেন আমাদের সকলকে ঈমানী জিন্দেগী দান করেন। আমীন।

দেওয়ান মো. আজিজুল ইসলাম
পাবনা

« <
/ 114
> »